ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে সরকার

২০২৬ জুলাই ০৭ ১৮:৪৫:৪৭

ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনজনিত ঘটনা নজরে এলে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভাগীয় মামলা রুজু করে শাস্তির বিধান রয়েছে। এ-সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

তিনি জানান, কর্মকর্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ থেকে ৬টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর আরও ৮টি প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সিভিল সার্ভিসের প্রতিটি বাধ্যতামূলক কোর্সে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচারবিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংসদে সরকারি চাকরির শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্যও তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি।

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের পদসংখ্যা ও কর্মরত কর্মকর্তার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন, অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপ-সচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ দিতে সময় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা হচ্ছে। তিনি জানান, ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে সময় লেগেছিল ৩ বছর ৭ মাস। ৪৫তম বিসিএসে তা কমে দাঁড়ায় ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিন, ৪৬তম বিসিএসে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন এবং ৪৭তম বিসিএসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীতে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সরকারি জনবলসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।

নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্যায্য কোনো প্রভাবকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। মেধা, সততা ও দক্ষতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত