ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের

২০২৬ জুলাই ০২ ১৪:৫১:৪৩

নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের

স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে ব্রাজিলকে মুছে ফেলতে হবে অতীতের এক অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান। সেই লক্ষ্য পূরণে তাদের হারাতে হবে নরওয়েকে—যে দলটির বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হলেও একবারও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা। চার ম্যাচে দুটি হার ও দুটি ড্র ব্রাজিলের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে রয়েছে। তবে শুধু পরিসংখ্যান নয়, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর নরওয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্মের বিপক্ষে খেলতে নামছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

নরওয়েই একমাত্র দল, যাদের কখনো হারাতে পারেনি ব্রাজিল। তবে এই পরিসংখ্যান বর্তমান দলকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। কারণ দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ৩৮ বছরেরও বেশি আগে এবং ২০০৬ সালের পর তারা আর একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। অর্থাৎ ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের অজেয় থাকার রেকর্ড টিকে আছে মূলত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দুই দলের দেখা না হওয়ার কারণেই।

তবে ব্রাজিলের জন্য প্রকৃত উদ্বেগের বিষয় ভিন্ন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষবারের মতো ব্রাজিলকে হারানোর পর থেকে নরওয়ের ফুটবলে এসেছে বড় পরিবর্তন। প্রায় তিন দশক পর দেশটি পেয়েছে তাদের সবচেয়ে প্রতিভাবান প্রজন্মকে, যারা এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যান্য শক্তিশালী দেশের মতো নরওয়েও সময়ের সঙ্গে নিজেদের উন্নত করেছে। বর্তমান দলে এমন অনেক ফুটবলার রয়েছেন, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শীর্ষ পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই ৯০-এর দশকের নরওয়ে দলের চেয়েও বর্তমান দলকে আরও ভয়ঙ্কর বলে মনে করেন ব্রাজিলিয়ান সংবাদপত্র ও গ্লোবো-এর কলামিস্ট কার্লোস এদুয়ার্দো।

দুই দেশের চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিই ছিল প্রীতি ম্যাচ, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল নরওয়ের রাজধানী অসলোতে স্বাগতিকদের অনুকূল পরিবেশে। তবে এবার ম্যাচটি হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যেখানে দুই দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে উচ্চ তাপমাত্রা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচে তীব্র গরম বিরাজ করবে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি হয়েছিল ফরাসি গ্রীষ্মে, রাতের পরিবেশে-যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় ভিন্ন।

নরওয়ে ১৯৯৭ সালের মে থেকে ১৯৯৮ সালের জুন-মাত্র ১৩ মাসের ব্যবধানে ব্রাজিলকে দুটি ম্যাচে হারিয়েছিল। সে সময় দলের কোচ ছিলেন এগিল ‘ড্রিলো’, যার অধীনে নরওয়ের ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

সেই সময় নরওয়ের আক্রমণের প্রধান ভরসা ছিলেন টোরে আন্দ্রে ফ্লো। ব্রাজিলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে তিনি করেছিলেন তিন গোল। ১.৯৩ মিটার উচ্চতার এই স্ট্রাইকার গতি দিয়ে আলাদা পরিচিতি পেলেও, বর্তমান তারকা আর্লিং হালান্ডের মতো সহজাত গোল করার ক্ষমতা তার ছিল না।

হালান্ড বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। নিজের শেষ ১৪ ম্যাচে করেছেন ২৬ গোল। মাত্র ৫৩ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে করেছেন ১৬ গোল এবং চলতি বিশ্বকাপেও পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রয়েছেন।

শুধু হালান্ডই নন, মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার সোরলোথ, অ্যান্তনিও নুসা ও অস্কার ববের মতো ফুটবলারদের নিয়ে নরওয়ের বর্তমান আক্রমণভাগকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান বলে মনে করা হচ্ছে। ৯০-এর দশকের দলের তুলনায় বর্তমান নরওয়ের ড্রিবলিং দক্ষতাও অনেক বেশি উন্নত।

এ প্রসঙ্গে মানসুর বলেন, ‘বর্তমানে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে কোনো ফুলব্যাকের মুখোমুখি হলে নরওয়ে তাদের সামলাতে পারছে, তারা ড্রিবলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।’

সব মিলিয়ে শুধু অতীতের চার ম্যাচের রেকর্ডই নয়, ব্রাজিলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি নরওয়ের মুখোমুখি হওয়া, যারা ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে বাছাইপর্বে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাসও তাদের সঙ্গে রয়েছে। ইউরোপের শীর্ষ লিগে প্রতিষ্ঠিত একঝাঁক ফুটবলার নিয়ে গড়া এই নরওয়ে দল তাই ব্রাজিলের জন্য কঠিন পরীক্ষাই হতে যাচ্ছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত