ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রাকৃতিক দুর্যোগে সারা দেশেই স্থগিত হতে পারে এইচএসসি পরীক্ষা

২০২৬ জুন ৩০ ১১:৫৭:০৯

প্রাকৃতিক দুর্যোগে সারা দেশেই স্থগিত হতে পারে এইচএসসি পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের কোনো বড় এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ ব্যাহত হলে শুধু ওই অঞ্চলে নয়, প্রয়োজন হলে সারা দেশেই পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি জানান, দেশের কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সেদিন সারা দেশের পরীক্ষাও স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘কোন বড় এলাকায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দিলে সারা দেশেই এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখার চিন্তা ভাবনা আমাদের আছে। তবে সেক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা বোর্ড সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সিন্ধান্ত নিব।’

দুর্যোগকবলিত নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষা স্থগিত রেখে দেশের অন্য এলাকায় পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে দুই দিকই রয়েছে। পরিস্তিতি বিবেচনা করে সবার সম্মিলিত সিন্ধান্তের ভিত্তিতেই আমরা সিন্ধান্ত নিব।’

পরীক্ষার্থীদের বিশেষ পরিস্থিতির বিষয়েও নমনীয় অবস্থানের কথা জানান তিনি। অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘একটা ব্যক্তি কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ঘটিয়ে সে সময়মতো কেন্দ্রে যেতে পারেনি। সেটা লোকাল প্রশাসন যদি ইচ্ছা করে এবং যদি যৌক্তিক মনে করে তাহলে তাকে একটু স্পেস দিয়ে পরীক্ষাটা নিতে পারে। কোনো একটা বিভাগে বড় ধরনের ডিজাস্টার আসলে টোটাল পরীক্ষাটাকে পোস্টপন্ড করে এনাদার একটা ডেতে আবার সারা দেশে পরীক্ষার আয়োজন করা। এটাকে আমরা বেটার মনে করছি।’

পাঁচ বছর পর এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বডি ক্যামেরাসহ পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে পরীক্ষাকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, আগে এমন অভিজ্ঞতা না থাকায় বিষয়টি নতুন হলেও তারা আশা করছেন প্রশ্নপত্র ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বডি ক্যাম্প থাকলে আসলে কোন ধরনের সমস্যা হতে পারে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে, তো এর আগে আমাদের এ ধরনের কোনো অভিজ্ঞতা নাই। ফলে আসলেই এটা শিক্ষার্থী হিসেবে একটু অস্বস্তির আরকি। আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করছি অতিরিক্ত সহজ কিংবা হচ্ছে অতিরিক্ত কঠিন কোনো প্রশ্ন হবে না। একটি সুন্দর একটি সাবলীল প্রশ্ন হবে।’

এদিকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মান ও ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার পার্থক্য বিবেচনায় রেখে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী বঞ্চিত না হয়।

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজারের বেশি। সারা দেশে এ পরীক্ষার জন্য কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৯৭টি।

ইমামুল হক প্রত্যয়

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

শিক্ষা এর অন্যান্য সংবাদ