ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

দুই ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে নবম জাতীয় পে-স্কেল

২০২৬ জুন ৩০ ০৯:১৮:২৫

দুই ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে নবম জাতীয় পে-স্কেল

নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ-সংক্রান্ত গেজেট জারি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও পে-স্কেলের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি এখন দুই ধাপে এটি কার্যকরের পক্ষে মত দিয়েছে। প্রথম ধাপে এ জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্রগুলো জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবিএএসপ্লাস)-এ জটিলতা এড়াতে একবারেই মূল বেতন কার্যকর করাকে অধিকতর যৌক্তিক মনে করছে অর্থ বিভাগ। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০টি গ্রেডে বেতন পান। এর মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম জাতীয় পে-স্কেলের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে এ অর্থের সংস্থান করা হতে পারে। এর আগে পে কমিশনের সুপারিশে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই ধাপেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী জুলাই থেকেই মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি এ প্রতিবেদন জমা দেবে।

জানা গেছে, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গঠিত তিনটি পৃথক পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে সচিব কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা রোববার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কর্মচারীদের দাবি এবং প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে কার্যকরের সুপারিশ করতে যাচ্ছে সচিব কমিটি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শতভাগ মূল বেতন বৃদ্ধি এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে।

বিভিন্ন ভাতা কমানো হতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, কিছু ভাতা কমানো হতে পারে। সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার পর কোন কোন ভাতায় পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ইমামুল হক প্রত্যয়

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত