ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

কেন সংসদ বয়কট করলেন মনিরুল হক চৌধুরী? যা জানালেন

২০২৬ জুন ২৯ ২০:৫৩:৫১

কেন সংসদ বয়কট করলেন মনিরুল হক চৌধুরী? যা জানালেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অনুপস্থিত রয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। ডেপুটি স্পিকারের একটি রুলিংকে কেন্দ্র করে নিজেকে ‘অপমানিত’ দাবি করে তিনি অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি সংসদ সচিবের কাছেও নোটিশ পাঠিয়েছেন।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন বাজেট আলোচনার সময় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের সদস্যরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য না করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার ঘোষণা করেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আবারও কথা বলার সুযোগ চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন।

পরে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি সহজ করার চেষ্টা করে তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালেও ডেপুটি স্পিকার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

এরপর থেকেই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ অধিবেশনে অনুপস্থিত রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সেদিন তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা এখনো তার কাছে অসংসদীয় বলে মনে হয় না। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যবিবরণী এবং বক্তব্যের অডিও-ভিডিও সংগ্রহ করে পেনড্রাইভে স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি টেলিভিশন ও অনলাইনে নিজের পুরো বক্তব্য দেখার পরও তার বিশ্বাস, তিনি কোনো অসংসদীয় মন্তব্য করেননি।

তিনি আরও বলেন, তিনি জানতে চেয়েছেন তার বক্তব্যের কোন অংশ সংবিধানবিরোধী, শিষ্টাচারবিরোধী, বর্ণবাদী বা অসংসদীয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি কার্যপ্রণালি বিধির ৩০২ ধারার আলোকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

সংসদে ফেরার বিষয়ে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন মনিরুল হক চৌধুরী। তার ভাষ্য, ঘটনার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও নিজের অভিযোগের গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংসদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত