ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

যেসব কারণে সংসদ অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

২০২৬ জুন ২৯ ১০:৪৭:০৭

যেসব কারণে সংসদ অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে জাতীয় সংসদে সৃষ্টি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। বক্তব্য দেওয়ার সময় বণ্টন, সংসদের কার্যপ্রণালি অনুসরণ এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশনের কার্যসূচির শেষ পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।

দিনের কার্যসূচির শেষভাগে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিল দুটি উপস্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ অনুযায়ী কোনো বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের কপি পৌঁছে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। তার ভাষ্য, স্পিকার চাইলে এই সময়সীমা শিথিল করতে পারেন, তবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ব্যতিক্রমী পদ্ধতি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হলে কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭-এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। পাশাপাশি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই কেন তিন দিনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর জবাবে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, বিল দুটি উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ২৩ জুনই সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিলের কপি বিতরণ করা হয়েছে এবং কার্যপ্রণালির সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকারের এই ব্যাখ্যার পরই বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

পরে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই ওয়াকআউট করা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তাদের দলের প্রাপ্য ২৬ শতাংশ বক্তব্যের সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে নতুন বিল উত্থাপনের ক্ষেত্রেও যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করেন।

নাজিবুর রহমানের ভাষ্য, বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলেও স্পিকারের কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো জবাব মেলেনি। এমনকি বিরোধী দলের সদস্যদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ ধারায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

ওয়াকআউটের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ন্যায্য বক্তব্যের সময় না পাওয়া, সংসদের কার্যপ্রণালি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদেই তারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুন)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুন)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক... বিস্তারিত