×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

বরিশাল-খুলনা শিশু হাসপাতাল চালু আগস্টে, ছয় মাসে আরও তিনটি

২০২৬ জুন ১৯ ১৭:২৫:৫০

বরিশাল-খুলনা শিশু হাসপাতাল চালু আগস্টে, ছয় মাসে আরও তিনটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে শিশু স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগামী আগস্টের প্রথমার্ধেই চালুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি নতুন হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর সুবিধা রাখা হয়েছে। বড় পরিসরে আইসিইউ সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব হাসপাতালের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

পুরোদমে কার্যক্রম চালাতে প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। এই জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যবহৃত থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর কার্যক্রম গতি পায়।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী ১ আগস্ট থেকে হাসপাতালটির উদ্বোধনের কথা জানান। তিনি বলেন, নিওনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার মনিটর এবং ফটোথেরাপি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম জুলাইয়ের মধ্যেই সরবরাহ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের পাঁচটি অঞ্চলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন শিশু হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। এসব হাসপাতাল সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনড হবে এবং বড় আকারের আইসিইউ সুবিধা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, বরিশাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ আগামী আগস্টে প্রথম ধাপে চালু করা হবে।

অন্যদিকে, খুলনা, কুমিল্লা ও রংপুর হাসপাতালের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে রংপুর শিশু হাসপাতাল, যা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল, সেটিও চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। রাজশাহী শিশু হাসপাতাল প্রথম ধাপে আউটডোর সেবা চালুর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে দেশের শিশু চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করতে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত