ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

যে কারণে ১৮ মাস বন্ধ থাকবে সায়হাম টেক্সটাইলের উৎপাদন

২০২৬ মে ১১ ১৯:০৩:০৬

যে কারণে ১৮ মাস বন্ধ থাকবে সায়হাম টেক্সটাইলের উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যয় বৃদ্ধি আর পুরনো যন্ত্রপাতির কারণে ক্রমাগত লোকসানের মুখে থাকা স্পিনিং ইউনিটের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। আগামী ১ জুন থেকে প্রায় ১৮ মাস এই ইউনিটের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। সোমবার (১১ মে) ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পুরনো এই স্পিনিং ইউনিটটি এক সময় কোম্পানির আয়ের মূল উৎস থাকলেও বর্তমানে এটি লোকসানের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএমআরই (আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কারখানার যন্ত্রপাতিগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন যেমন হচ্ছিল না, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল উৎপাদন খরচ। এই সংকট কাটাতে পুরনো ভবন পুনর্নির্মাণ এবং উন্নত মানের স্বয়ংক্রিয় স্পিন্ডল মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিকায়নের এই প্রক্রিয়া চলাকালীন স্পিনিং ইউনিটের পুরনো যন্ত্রপাতিগুলোও দ্রুত বিক্রি করে দেওয়া হবে।

সায়হাম টেক্সটাইলের দুটি ইউনিটের মধ্যে মেলাঞ্জ ইউনিটটি (২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত) সচল থাকলেও স্পিনিং ইউনিটটি বন্ধ হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে কোম্পানির সামগ্রিক আয়ে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। বিএমআরই সম্পন্ন হলে উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির মুনাফা ও শেয়ারহোল্ডারদের আস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

উৎপাদন বন্ধ থাকার দীর্ঘ এই ১৮ মাস কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতায় কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে বড় অঙ্কের নতুন বিনিয়োগের চাপ, অন্যদিকে আয়ের প্রধান একটি উৎস বন্ধ থাকা—এই দুই চ্যালেঞ্জ কোম্পানিটি কীভাবে সামাল দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে সায়হাম টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ আত্মবিশ্বাসী যে, পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষ করে নতুন উদ্যমে ফিরলে কোম্পানিটি তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে এবং টার্নওভার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজ থেকে সারাদেশে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু

আজ থেকে সারাদেশে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় স্বস্তি দিতে দেশজুড়ে ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন... বিস্তারিত