ঢাকা, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

উৎপাদন চালু রাখতে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায় রিং শাইন

২০২৬ মে ১০ ০৬:১২:২১

উৎপাদন চালু রাখতে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায় রিং শাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক সময়ের সফল রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড এখন গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। বেপজার বিপুল পরিমাণ বকেয়া এবং ব্যবসায়িক স্থবিরতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকার লড়াই করছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও কোম্পানিকে পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন বিদেশি উদ্যোক্তারা।

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড)-এ পরিচালিত শতভাগ রপ্তানিমুখী এই কোম্পানিটি ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ড, তাইওয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার নয়জন বিনিয়োগকারীর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। কোম্পানির বিদেশি মালিকরা জানিয়েছেন, বেপজার পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে অবন্ত গ্রেড ফ্যাশন ও শাইন ফ্যাশন নামের দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে দুই বিদেশি পরিচালক দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। অন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও একই ধরনের জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় বর্তমানে বাংলাদেশে আসা এড়িয়ে চলছেন।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ পিয়াল বলেন, ২০১৯ সাল পর্যন্ত তৈরি পোশাক খাতে রিং শাইন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল এবং দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে করোনা মহামারির পর ব্যবসায়িক মন্দা, ঋণের চাপ, বেপজার বকেয়া এবং চলতি মূলধনের সংকটে কোম্পানির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ পুনর্তফসিলের সুবিধা পাওয়া গেছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত ৪০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা রুগ্ণ ও বন্ধ কারখানাগুলোর জন্য গঠন করা হচ্ছে।

রিং শাইনের বর্তমান সংকটের পেছনে ২০১৯ সালের বিতর্কিত আইপিও প্রক্রিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও পরবর্তীতে বিএসইসির তদন্তে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

তদন্তে দেখা যায়, বিতর্কিত কাস্টমস কর্মকর্তা মতিউর রহমান এবং এফএআর গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ফারুকের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট কোনো অর্থ বিনিয়োগ না করেই প্রায় ১১২ কোটি টাকার শেয়ার বরাদ্দ নিয়েছিল। এই অনিয়মের ফলে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার। বকেয়া পরিশোধ না করায় ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কয়েকটি প্লটের ইজারা বাতিলের নোটিশ দিয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না।

অনিরুদ্ধ পিয়াল মনে করেন, সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তা পেলে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে। এতে শুধু কোম্পানিটিই নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বাংলাদেশের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দামের পতন ঘটেছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে কয়েক হাজার টাকা কমে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা... বিস্তারিত