ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
এনআইডি ও টিন সমন্বয়ের প্রস্তাব; কর ফাঁকি রোধে কঠোর হচ্ছে এমসিসিআই
নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ মন্দা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ রক্ষায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী’ করার আহ্বান জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। গতকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) এমসিসিআই এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে সংগঠনটির সভাপতি কামরান টি রহমান এই দাবি জানান।
সেমিনারে কামরান টি রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ (এসএমই) সামগ্রিক ব্যবসা খাত চরম চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই আগামী বাজেট হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত। তিনি যুক্তি দেন যে, একটি বিচক্ষণ কর নীতি ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে বরং রাজস্ব বৃদ্ধি, বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে।
কর নেট বাড়ানোর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কর শনাক্তকরণ নম্বর (TIN) ডাটাবেজ পূর্ণাঙ্গভাবে সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন এমসিসিআই সভাপতি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে এক কোটির বেশি টিনধারী থাকলেও অর্ধেকেরও কম আয়কর রিটার্ন জমা দেন। নতুন করদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করতে একটি প্রতীকী ‘ন্যূনতম কর’ চালু এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত উভয় ধরনের কোম্পানির ক্ষেত্রে কর্পোরেট কর আরও ২.৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করেছে এমসিসিআই। এছাড়া নগদ লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধসহ কর্পোরেট কর সুবিধার সাথে যুক্ত বিভিন্ন শর্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি কমাতে আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমসের জন্য একটি সমন্বিত ‘ট্যাক্সপেয়ার প্রোফাইল’ চালুর প্রস্তাব দেন কামরান টি রহমান। ডিজিটাল নোটিশ ও অনলাইন হিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসার সময় ও খরচ কমানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এসএমই খাতের জন্য আলাদা কর কাঠামো, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা এবং কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট কমানো জরুরি। এছাড়া ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অটোমেশন জোরদার এবং লেনদেন-ভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবি-এর সাবেক সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৬.৫% থেকে ৭.৩% এর মধ্যে, যা বিশ্বজুড়ে সর্বনিম্ন দেশগুলোর একটি। টেকসই উন্নয়নের জন্য এই অনুপাত অন্তত ১৫% হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি হওয়া উচিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি সামগ্রিক নীতিমালা।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)