ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

ওসমান হাদি হ'ত্যা মামলায় অস্ত্র বিক্রেতার জবানবন্দি

২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৯:৩০:৪৬

ওসমান হাদি হ'ত্যা মামলায় অস্ত্র বিক্রেতার জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ এবং পরে তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।

আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন পল্টন থানার জিআর শাখার এএসআই মো. মামুন। তিনি জানান, আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে চট্টগ্রামের চকবাজার থেকে গ্রেপ্তারের পর ১৫ এপ্রিল আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা উল্লেখ করেন, মামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয় এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় সেটি থেকে ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত গুলি ছোড়ার প্রমাণ মেলে। মাইক্রো-অ্যানালাইসিস পরীক্ষায় অস্ত্রটির সিরিয়াল নম্বরও উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তদন্তে জানা যায়, পিস্তলটি ঢাকার এমআইএইচ আর্মস কোম্পানি আমদানি করে ২০১৭ সালে ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করে। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়, যার মালিক ছিলেন আসামি মাজেদুল হক হেলাল। তার অস্ত্র লাইসেন্স ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর নবায়ন করা হয়নি।

ঘটনার পটভূমিতে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত ওসমান হাদিকে ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গুলি করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান, যা মামলাটিকে হত্যাচেষ্টার পরিবর্তে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করে।

পরবর্তীতে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে, তবে বাদীর নারাজির পর আদালত সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে সেই তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত