ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ২০:০৪:৩৮

সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকায় নবজাতকসহ যারা টিকার আওতার বাইরে ছিল, তারাই এখন হামে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের উত্থাপিত জরুরি নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। নোটিশে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এ কর্মসূচি চার বছর পরপর হওয়ার কথা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, টিকা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে মজুদ সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে হামসহ কয়েকটি টিকার ঘাটতি দেখা দেয়।

এ সময় আখতার হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে। তার মতে, মাঠপর্যায়ে টিকা প্রদান কার্যক্রম নিয়ে ভিন্নমত ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি হাসপাতালে আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধার ঘাটতির বিষয়ও তুলে ধরেন এবং রোগতত্ত্ববিদদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ জেলার ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ১২ এপ্রিল থেকে তিনটি সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো কার্যক্রমও চালু রয়েছে।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড স্থাপনের কাজ চলছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর ব্যবস্থার উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইসিডিডিআরবির সহায়তায় কম খরচে অক্সিজেন সরবরাহের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হাম মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ভবিষ্যতে টিকার ঘাটতি এড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।

শেষে আখতার হোসেন সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, বাজেট বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। তিনি স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা ও অর্থ ব্যয়ের অপূর্ণতার বিষয়টি তুলে ধরেন। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং ইউনিসেফ ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ ও কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত