ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

বাসায় ঢুকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তাকে গলা কেটে হ'ত্যা

২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১২:১৭:১১

বাসায় ঢুকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তাকে গলা কেটে হ'ত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে নিজ বাড়ির ভেতরে ঢুকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম (৭০) কে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মা ও ছেলে পরিচয়ে দুজন ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে শাহনাজ বেগমকে হত্যা করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে আটটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন নিহতের পুত্রবধূ সৈয়দা জিন্নাত আকতার ও তার ছোট মেয়ে। নিহতের একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসান (সজীব) তখন পাশের দাড়িদহ বাজারে তার ইলেকট্রনিক পণ্যের শোরুমে অবস্থান করছিলেন।

পুত্রবধূ সৈয়দা জিন্নাত আকতার (রিয়া) ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সাঁঝের সময় প্রায় চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী বাড়িতে এসে তার শাশুড়ির সঙ্গে কথোপকথন শুরু করেন। তিনি পূর্বপরিচিত বলে পরিচয় দেন এবং গল্পের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। কিছুক্ষণ পর ওই নারীর ছেলে পরিচয়ে ২৩-২৪ বছর বয়সী এক তরুণ বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাদের আপ্যায়নের অংশ হিসেবে বিস্কুট ও চানাচুর দেওয়া হয়। এরপর তারা শাশুড়ির ঘরে অবস্থান করছিলেন।

তিনি আরও জানান, মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য নিজ ঘরে গেলে কিছু সময় পর হঠাৎ শাশুড়ির চিৎকার শুনতে পান। দ্রুত বাইরে বের হতে চাইলে দেখেন দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। এ সময় আতঙ্কে তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকতে থাকেন। পাশের বাড়ির লোকজন পৌঁছানোর আগেই বাড়ি থেকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়। পরে দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে দেখেন, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ পড়ে আছে এবং শাশুড়ির মুখ ওড়না দিয়ে বাঁধা। ঘটনার পর ওই নারী ও তরুণ আর সেখানে ছিলেন না। পুরো ঘটনাটি আনুমানিক ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘটে যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। ঘরের কোনো টাকা, স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিস খোয়া যায়নি। নিহতের ছেলে মাহমুদুল হাসান জানান, তাদের পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। তার বাবা আবদুল খালেকও রাকাবের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন এবং বাবার মৃত্যুর পর তিনি মায়ের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী পুত্রবধূর দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তার বর্ণনার ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারী ও পুরুষকে শনাক্ত করা গেলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত