ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

ফের সরকারের হাতে যাচ্ছে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা

২০২৬ এপ্রিল ০৩ ১৯:৫৯:২৬

ফের সরকারের হাতে যাচ্ছে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত আসছে। বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় সরকারের হাতে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, পাশাপাশি গণভোট, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ মোট ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে অনুমোদন পাচ্ছে না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা-সম্পর্কিত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, যদিও এসব অধ্যাদেশের আওতায় গৃহীত কার্যক্রমে হেফাজতের বিধান রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে গণভোটসহ আরও ১৬টি অধ্যাদেশে হেফাজতের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়নি।

এ অবস্থায় এসব অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে নতুন করে বিল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি ১১৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু বিল আকারে এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে প্রতিবেদন পেশ করেন। এর আগে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়। পরে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৩ সদস্যের ওই কমিটিতে বিএনপির ১০ জন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া একাধিক সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা বৈঠকে অংশ নেন।

কমিটি তিনটি আনুষ্ঠানিক ও একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। নির্ধারিত একটি বৈঠক বৃহস্পতিবার ডাকা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টির বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য নোট অব ডিসেন্ট দেন, যেগুলো বাতিল বা এখনই অনুমোদনের সুপারিশ না করার কারণে তারা ভিন্নমত প্রকাশ করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা কার্যকারিতা হারায়। সে অনুযায়ী অনুমোদন না পাওয়া ২০টি অধ্যাদেশ আগামী ১০ এপ্রিলের পর কার্যকর থাকবে না। অন্যদিকে অনুমোদনের সুপারিশ করা ১১৩টি অধ্যাদেশ ৬ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে তোলা হবে এবং ১০ এপ্রিলের মধ্যে এগুলো পাস করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যেসব ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশই রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণয়ন করেছিল বলে জানা গেছে। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারালে সরকারের সংস্কার উদ্যোগে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদসহ সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার নিয়েও নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়াতে পারে।

আইনজীবী ও সচেতন মহলের একাংশ মনে করছেন, বিচারপতি নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল বা পরিবর্তনের উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক এসব পদক্ষেপ পরিবর্তনের চেষ্টা দেশের বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত