ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রাথমিক শিক্ষায় অনলাইন ক্লাস নিয়ে নতুন পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের মহানগর এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ও সশরীরে পাঠদান চালুর বিষয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতাদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে মন্ত্রী অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকরা অনলাইন পদ্ধতিতে পাঠদানের বিষয়ে ততটা আগ্রহ প্রকাশ করেননি।
শিক্ষকদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানই বেশি কার্যকর। তাদের দাবি, অনলাইন শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কমে যায় এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতি আসক্তি বাড়ে। এছাড়া অনলাইনে পাঠদানের জন্য অনেক শিক্ষকের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকায় এটি বাস্তবায়ন কঠিন বলেও তারা জানান।
আলোচনা সভা সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী প্রাথমিকভাবে ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস চালুর একটি সমন্বিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিন অনলাইন ক্লাস হলে পরের দিন অফলাইন ক্লাস হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ ও মন্ত্রিসভার বৈঠকের মাধ্যমে নেওয়া হবে।
শিক্ষকরা বৈঠকে আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ডিভাইস ব্যবহারে অভ্যস্ত নয় এবং অনেক পরিবারের পক্ষে অনলাইন ক্লাসে সন্তানদের যুক্ত করা সম্ভব নয়। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস সরবরাহের বিষয়েও মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সাধারণত শিক্ষার্থীদের বাসা থেকে কাছাকাছি হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে স্কুলে আসে। তাই অনলাইন ব্যবস্থার চেয়ে সরাসরি পাঠদানই বেশি কার্যকর হতে পারে এবং এতে জ্বালানি সাশ্রয়ও সম্ভব।
সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন শিক্ষক নেতারা বলেন, অফলাইন ক্লাস চালু থাকলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ বজায় থাকে। তারা অনলাইন ক্লাসের পরিবর্তে সরাসরি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া বিদ্যুৎ অপচয় রোধে বাসা-বাড়িতে ফ্যান, এসি ও অন্যান্য ডিভাইসের ব্যবহার কমানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়। অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে ওঠে।
আলোচনায় আরও প্রস্তাব আসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে স্কুল বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমে জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে। পাশাপাশি সকালে স্কুল চালু করা, ছুটির দিনেও সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো এবং প্রয়োজনে ছুটির সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের বিষয়গুলো নিয়েও মতামত উঠে আসে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- রবির মুনাফায় আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি, ব্যাকফুটে শিপিং কর্পোরেশন
- বাংলাদেশিদের স্কলারশিপ দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিমন্স ইউনিভার্সিটি, আবেদন শুরু
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- ঈদকে সামনে রেখে মুনাফা তুলছেন বিনিয়োগকারীরা
- পদত্যাগ করলেন ঢাবি শিক্ষক মোনামি
- এমপিও শিক্ষকদের ঈদ বোনাস কবে, যা জানা গেল
- ঢাকাসহ ১৭ জেলায় রাতের ঝড়ের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ চেয়ারম্যান ও ৭ ডিনের পদত্যাগ, নেপথ্যে কী?