ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

রাতের অন্ধকারে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের ফাঁদ

২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:০০:৫৭

রাতের অন্ধকারে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের ফাঁদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপনে রাতের মিটিং করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কুশীলবদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সময় শেখ হাসিনার কারামুক্তির আগ পর্যন্ত রাতের অন্ধকারে মাঝেমধ্যেই গোপন মিটিং হতো। এই মিটিং সমন্বয় করতেন ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন পরিচালক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন।

সূত্র জানিয়েছে, ভারতের পরিকল্পনায় ওয়ান-ইলেভেন সরকারের প্রধান কুশীলব, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ ও ফখরুদ্দীন আহমদ পক্ষ থেকে এ টি এম আমিন সমন্বয় করতেন। তবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, তিনি এসব গোপন মিটিংয়ে অংশ নিতেন না।

মাসুদ চৌধুরীকে পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় প্রথম দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ২৯ মার্চ রোববার আদালত ছয় দিনের রিমান্ড দিয়েছেন। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

অন্যদিকে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আরেক কুচক্রী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদও রিমান্ডে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার পর এখন ঘুরেফিরে একই কথা বলছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০০৭-০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

মামুন খালেদকে গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টায় মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। আজ ৩০ মার্চ তার রিমান্ড শেষ হবে, তবে দ্বিতীয় দফায় পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক থাকাকালীন তিনি সাধারণ মানুষ, রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে নাম সংশ্লিষ্ট। এছাড়া সেনা কর্মকর্তাদের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার এক কোটি ৪০ হাজার টাকা নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

মাসুদ চৌধুরী প্রথম দফা রিমান্ডে জানিয়ে ছিলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের পরিকল্পনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (‘র’) জড়িত ছিল। তাদের সহযোগিতা করেন তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। পরিকল্পনা শুরু হয় ২০০৬ সালের শেষ দিকে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় বিএনপি সরকারের শেষদিকে পল্টন মোড়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও শ্রমিক পাচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। মাসুদ উদ্দিন ও সহযোগীরা ‘ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল’ নামক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ পাচারের মামলা চলছে।

ডিবি পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) মো. রায়হানুর রহমান জানান, প্রথম রিমান্ডে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে গেছেন আসামি। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রাপ্ত এজেন্সির কার্যক্রম, মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীদের প্রকৃত তথ্য এবং আত্মসাৎ হওয়া বিশাল অঙ্কের টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে তাকে পুনরায় সাতদিনের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এএসএম/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত