ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য: ঢাবি উপাচার্য

২০২৬ মার্চ ২৯ ১৬:৫৫:৫৫

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য: ঢাবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন জাতির সর্বোচ্চ গৌরবের বিষয়। স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য ছিল সামাজিক বৈষম্য নিরসন এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও গণতান্ত্রিক মুক্তি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করবে।

আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। এছাড়া, শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে ফার্মেসী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বক্তব্য রাখেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট কমান্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহিদ পরিবার কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্বরতার নির্মম উদাহরণ হয়ে আছে।

এসময় তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এর শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

উপাচার্য আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পার হলেও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে এখনও ব্যবধান রয়ে গেছে। তাই বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা একটি দলগত দায়িত্ব। তিনি নিজেকে ‘ফ্যাসিলিটেটর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের বৈষম্য বা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জেনে একটি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

উল্লেখ্য, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে গত ২৬ মার্চ ২০২৬ সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কেন্দ্রীয় ভবন ও আবাসিক হলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাইবৃন্দ সকাল ৬টায় স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে জমায়েত হন। সকাল ৬টা ১৫মিনিটে উপাচার্যের নেতৃত্বে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে যাত্রা করা হয় এবং পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। একই দিন বা’দ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআ’য় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া, ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত