ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

ইবি শিক্ষিকা হ'ত্যাকাণ্ড: সিসিটিভি ফুটেজে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ মার্চ ১৪ ১২:১৭:১০

ইবি শিক্ষিকা হ'ত্যাকাণ্ড: সিসিটিভি ফুটেজে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার সময় বিভাগটির অফিস ব্লক প্রায় জনশূন্য ছিল, যা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে সংঘটিত এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান সুযোগ বুঝে শিক্ষিকা রুনার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। ঘটনার দিন বিভাগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন থাকায় অনেকেই ব্যস্ত ছিলেন, ফলে অফিস এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কম ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভাগ ত্যাগ করেন। এরপর ৩টা ৪১ মিনিটে সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক এবং কর্মচারী ফজলুল ও সোহাগ ভবনের বিপরীত পাশের গেট দিয়ে বেরিয়ে যান। তারা যাওয়ার সময় বিভাগের দায়িত্ব নৈশপ্রহরী সুমনের কাছে দিয়ে যান বলে জানা গেছে।

তবে ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে নৈশপ্রহরী সুমনও ভবন ছেড়ে চলে যান। এর ফলে বিভাগের ওই অংশটি কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়ে।

আরেকটি ফুটেজে বিকেল ৪টা ১ মিনিটে ফজলুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কিচেন রুম থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু নিয়ে বের হতে দেখা যায়। এর আগে তাকে সেখানে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। পরে তিনি তৃতীয় তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় নেমে রুনার কক্ষের আশপাশে অবস্থান করেন।

এরপর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তিনি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে রুনার কক্ষে প্রবেশ করেন। মাত্র দুই মিনিট পর, বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে কক্ষের ভেতর থেকে রুনার ‘আল্লাহ বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যায়।

চিৎকার শুনে ভবনের নিচে অবস্থানরত দুই আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান এবং ভেতরে রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে শিক্ষার্থীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, গণপিটুনি এড়াতে তিনি এমন চেষ্টা করেন।

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, ইফতার মাহফিলের দিন বিভাগের প্রায় সবাই একসঙ্গে অনুপস্থিত থাকা সন্দেহজনক এবং বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক জানান, শিক্ষিকার অনুমতি নিয়েই তিনি ক্যাম্পাসসংলগ্ন শেখপাড়া বাজারে ফল কিনতে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ফজলুল ও সোহাগও ছিলেন। যাওয়ার সময় বিভাগের দায়িত্ব নৈশপ্রহরী সুমনের কাছে দিয়ে যান বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে নৈশপ্রহরী সুমন দাবি করেন, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিকেল ৪টার দিকে তিনি বিভাগ ছেড়ে বাড়িতে যান। তবে সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগে তাকে ভবনে দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সেখানে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।

বর্তমানে সমাজকল্যাণ বিভাগে সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা ছাড়াও শিক্ষক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক, সেমিনার লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হক, কর্মচারী সোহাগ এবং নৈশপ্রহরী সুমন কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে দাপ্তরিক অদক্ষতার অভিযোগে এক কর্মচারীকে অন্য হলে বদলি করা হয় এবং অসদাচরণের কারণে ফজলুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত