ঢাকা, রবিবার, ৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান চসিক মেয়রের

২০২৬ মে ০৩ ১৪:১৫:৫২

জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান চসিক মেয়রের

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধানে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শুধু উন্নয়নমূলক কাজই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে জনসচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (৩ মে) নগরের ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী, ২৬ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ী এবং ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে চলমান নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিতভাবে নালা পরিষ্কারের কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু পরিষ্কার করার পরপরই যদি আবার সেখানে প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলা হয়, তাহলে জলাবদ্ধতার সমস্যা কখনোই পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। এ সময় তিনি নগরবাসীকে নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে সাম্প্রতিক বৃষ্টির সময় আগ্রাবাদসহ কিছু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি জানান, গুলজার খাল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেট নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় সেখানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়ে আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এলাকাসহ আশপাশে পানি জমে সাময়িক দুর্ভোগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে স্লুইস গেটের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং ওই এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে।

নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কার কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলে জানান মেয়র। এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত বছর জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নিরসন করা সম্ভব হয়েছে। চলমান খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে নগরবাসী আরও ভালো ফলাফল পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, প্রতি সপ্তাহে নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এটি ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু হয়ে একসময় সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে এবং তখনই চট্টগ্রামসহ দেশের শহরগুলো আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

দেশের বাজারে নাটকীয়ভাবে কমছে স্বর্ণের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ফের কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।... বিস্তারিত