ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

শোকজের পর ফেসবুক পোস্টে যা বললেন ছাত্রদল নেতা হামিম

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৬:০৮:৩৭

শোকজের পর ফেসবুক পোস্টে যা বললেন ছাত্রদল নেতা হামিম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যক্তিগত সেন্টিমেন্ট এবং অভিমানকে পাশে সরিয়ে রেখে দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কর্তৃক প্রেরিত ‘কারণ দর্শানোর নোটিশের’ (শোকজ) জবাব না দেওয়ার প্রাথমিক অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি এখন লিখিতভাবে নিজের ব্যাখ্যা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে তিনি এই পরিবর্তনের কথা জানান।

শোকজ পাওয়ার পর কেন তিনি শুরুতে কঠোর অবস্থানে ছিলেন, তার ব্যাখ্যায় হামিম উল্লেখ করেন যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারই তাঁকে মানসিকভাবে আহত করেছিল। তিনি জানান, শোকজপত্র হাতে পাওয়ার আগেই যখন দেখলেন ফেসবুক ও বিভিন্ন ভুঁইফোঁড় সংবাদমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ‘“চাঁদাবাজি” কিম্বা “শিবির সংশ্লিষ্টতা”র’ মতো বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছে, তখন তিনি নিজেকে সামলাতে পারেননি। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যে সংগঠনের সাথে তাঁর নিবিড় পথচলা এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তাঁর নিরলস কাজের বিপরীতে এমন অভিযোগে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

তবে দীর্ঘ চিন্তার পর তিনি সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখাটাই শ্রেয় মনে করেছেন। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে হামিম লেখেন, ‘“চেইন অব কমান্ড” সবক্ষেত্রে বেশি জরুরি। হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) এর নেতৃত্বেও মুসলমানদের পরাজয় ঘটার কাহিনী আছে, যথাযথভাবে চেইন অব কমান্ড না মানার ফলে। তাই, আমার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমাকে যে শোকজ করেছে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ দলের একজন আদর্শিক কর্মী হিসেবে “লিখিত জবাব” আমি দেব।’ তাঁর এই সিদ্ধান্ত ছাত্রদলের তৃণমূল কর্মীদের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।

সংগঠনের স্বার্থে নিজের অহম বিসর্জন দিয়ে হামিম আরও যোগ করেন, ‘আমি মনে করি, প্রতিটি সংগঠনে কেউ “চেইন অব কমান্ড”-এর ঊর্ধ্বে নয়। আমি নিজেও নই।’ তিনি দাবি করেন যে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তিনি সবসময়ই আপসহীন ছিলেন এবং একটি সুশৃঙ্খল ছাত্রদলই আগামীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভরসার স্থল হয়ে উঠবে। এই পথচলায় তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ডে যারা কষ্ট পেয়েছেন তাঁদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ছাত্রদলের এই তরুণ নেতার এই নমনীয় অবস্থান মূলত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো ধরণের বিভ্রান্তি দূর করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর লিখিত জবাবের পর কেন্দ্রীয় সংসদ কী ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত