×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

উপাচার্য সংকটে দেশের ৩১ বিশ্ববিদ্যালয়, তালিকা দেখুন এখানে

২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৯:৪৩:২১

উপাচার্য সংকটে দেশের ৩১ বিশ্ববিদ্যালয়, তালিকা দেখুন এখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১০ বছর আগে রূপায়ণ এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হলেও এখনো সেখানে কোনো ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসনিক শীর্ষ পদ ‘উপাচার্য’ও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একই অবস্থা ২০২০ সালে অনুমোদন পাওয়া রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইক্রোল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ক্ষেত্রেও।

শুধু এই দুটি প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের মোট ১১২টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টি এখনো শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানসহ বর্তমানে ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয় চলছে উপাচার্য ছাড়াই। পাশাপাশি উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদও শূন্য রয়েছে বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিষয়টি উঠে এসেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকায়।

ইউজিসি জানিয়েছে, এই তালিকা একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ এবং নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হয়। সর্বশেষ তালিকাটি গত সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়, এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একই ধরনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে অনুমোদিত ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর মতো পরিবেশ রয়েছে, তবে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়- ইবাইস ইউনিভার্সিটি, দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা, আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এবং কুইন্স ইউনিভার্সিটি এখনো শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশে এই খাতে যাত্রা শুরু হয়। প্রায় সাড়ে তিন দশকে ১১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কাঠামো ও পরিচালনায় নানা পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে শিক্ষাবান্ধব উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজকে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য তিনজন করে অধ্যাপকের নাম প্রস্তাব করতে হয়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির যাচাই-বাছাই শেষে রাষ্ট্রপতি (চ্যান্সেলর) একজনকে নিয়োগ দেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব পদে স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো কোনো নিয়োগই হয়নি।

ফলে বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য না থাকায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউজিসির তালিকায় এমনও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে উপাচার্য নিয়োগ পেলেও তিনি এখনো যোগদান করেননি। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শিক্ষা কার্যক্রমই শুরু করতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা কার্যক্রমের আড়ালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

ইউজিসির সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী উপাচার্যবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে- ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সাউদার্ণ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (খুলনা), ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি, ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আর.পি. সাহা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এছাড়া তালিকায় আরও রয়েছে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (সৈয়দপুর), বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (কাদিরাবাদ), বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কুমিল্লা), নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (খুলনা), রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া), সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, রূপায়ণ এ. কে. এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি, মাইক্রোল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ডা. মমতাজ বেগম ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (খুলনা), লালন বিজ্ঞান ও কলা বিশ্ববিদ্যালয়, জাস্টিস আবু জাফর সিদ্দিকী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত