×

ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পদত্যাগের খবর মিথ্যা, জানালেন চুয়েট উপাচার্য

২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১১:০১:১০

পদত্যাগের খবর মিথ্যা, জানালেন চুয়েট উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদত্যাগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসে ফিরবেন না-এমন খবরকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এ দাবি করেন।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না—এ রকম কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি দিইনি। আপনারা দেখেছেন, যখন আমাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আমার কথা বলার মতো পরিস্থিতি ছিল না। যারা এ রকম সংবাদ প্রচার করছেন, তাদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করবেন।’মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি পদত্যাগের খবরের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

বর্তমানে উপাচার্যকে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বোর্ডের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানানোর কথা রয়েছে।

দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার কারণে নিজেরসহ মোট ১১ জনের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। অসুস্থ হয়ে পড়েন দুজন অ্যালামনাই সদস্যও। তাঁদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে উপাচার্যকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপাচার্য বলেন, ‘আপনারা এরই মধ্যে অবগত হয়েছেন, আমরা অমানবিক একটা পরিবেশে ছিলাম। এর প্রেক্ষিতে আমাদের ১১ জনের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটে। অনেকে অসুস্থ হয়ে যান। আমাদের দুজন অ্যালামনাই সদস্য গত রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

অবরুদ্ধ অবস্থায় দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় তাঁদের অমানবিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

সরকারের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, সরকার তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাঁকে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘তোমরা তোমাদের অমূল্য শিক্ষাজীবন নষ্ট করো না। তোমরা হয়তো কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পাল্লায় পড়ে ব্যবহৃত হচ্ছ। তোমরা যথেষ্ট বুদ্ধিমান। তোমরা কারও দ্বারা ব্যবহৃত হবে না, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছেন তিনি। ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা কোনো দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তাঁর এখানে আসা নয়।এর আগে গত সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে বহিরাগতদের নিয়ে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এরপর শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কার্যালয় না ছাড়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের ফটকে আবার তালা দেওয়া হয়। এতে উপাচার্যসহ সেখানে থাকা অন্যরা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ক্যাম্পাসে গিয়ে উপাচার্যকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশি পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ