ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিসেম্বরের আগেই যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিকল্পনার (ব্লু-প্রিন্ট) ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত এক মাসে সারা দেশে অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের বড় অংশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ এটিকে কোণঠাসা হয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাঁর দেশে ফেরার পথ তৈরি হতে পারে। তবে এ নিয়ে সমঝোতা হোক বা না হোক, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত এক মাসে সারা দেশ থেকে ৫৩ হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ছয় দিনেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার। রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জনকে আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৪৬৫ জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার হওয়া উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন খান জ্যোতি, পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা, তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুল তালুকদার এবং সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ধুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম ভোলা। এ ছাড়া সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ রুহুল আমিন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের রেনু মিয়া, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মাজেদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আব্দুল বারিক এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সরকারসহ তৃণমূলের অনেক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেনু মিয়া হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়ার পর আট ঘণ্টা পর আবার গ্রেফতার হন।
আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুই দফায় ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, দেশে ফিরলে গ্রেফতার ও মামলার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তাঁর এই ঘোষণা কোণঠাসা হয়ে পড়া কর্মীদের মনোবল চাঙা করার কৌশলও হতে পারে। তাঁদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি মূলত ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতার ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে বিশ্লেষকদের আরেক অংশ মনে করছেন, ভারত সরকার দীর্ঘ সময় শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়াকে নিজেদের জন্য চাপ হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে নিরাপত্তা ও আইনি নিশ্চয়তা, যেমন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ার নিশ্চয়তার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাঁকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ঘোষণাকে শুধু মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পুনর্বাসন এবং দেশের মাটিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগের তাগিদও এর পেছনে বড় চালিকাশক্তি। তবে আত্মগোপনে থাকা নেতারা যদি উপযুক্ত সময়ে (হিট অব দ্য মোমেন্ট) মাঠে নেমে পড়েন, তাহলে সাঁড়াশি অভিযান দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাপক ধরপাকড়ের পাশাপাশি কারাগারের ধারণক্ষমতাও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশের কারাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার হলেও সেখানে গড়ে লাখের কাছাকাছি বন্দি রয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, সমঝোতা ছাড়াই শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এবং তা ঠেকাতে জোরপূর্বক প্রতিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা দেখা দিতে পারে। তাঁর মতে, শুধু পুলিশি শক্তি প্রয়োগ বা গণগ্রেফতারের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেবল প্রধান উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। অন্যথায় কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির সংকট আরও বাড়লে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, আত্মগোপনে থেকে গোপনে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন—এমন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ডিসেম্বরের আগেই তাঁদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট ঠেকাতে সাইবার পুলিশ ইউনিট ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ বলেন, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা জনজীবন অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কঠোরভাবে প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল
- ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল
- এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে সুখবর দিলেন সেলিম ভূঁইয়া
- বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
- ‘রইদ’-এর ঝুলিতে তিন পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রী নাজিফা তুষি