×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২১:৩৭:৩৭

এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই সুযোগেও যারা পাস করতে পারবে না, তাদের ভোকেশনাল বা কারিগরি শিক্ষায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি থাকে। কারণ, প্রশ্নপত্রের দুটি সেট তৈরি করা হয়। এর মধ্যে একটি ব্যবহার করা হলেও অন্যটি অব্যবহৃত থাকে। তবে পুনরায় পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যৌক্তিক সময় দেওয়া প্রয়োজন।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা এ ফেলের লিগ্যাসি বছরের পর বছর বহন করতে চাই না। ফেল করলে অল্প সময়ের মধ্যে একবার সুযোগ দেবো। তারপরও ফেল করলে সোজা ভোকেশনালে পাঠিয়ে দেবো। তাদের কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে। সুযোগ পাওয়ার পরও যারা অকৃতকার্য হবে, তাদের ভোকেশনাল শিক্ষায় স্থানান্তর ছাড়া তো উপায় নেই।’

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

এর আগে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এহছানুল হক বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। শিক্ষার্থীরাও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠছে। তাদের যথাযথভাবে পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদেরও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

নবনিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষের পেছনের বেঞ্চে বসা শিক্ষার্থী কিংবা প্রশ্ন করতে ভয় পায়—এমন শিক্ষার্থীদেরও প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে। এ দায়িত্ব শিক্ষকদেরই পালন করতে হবে।

শিক্ষা ও শিক্ষকদের উন্নয়নে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান বাড়াতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নবনিযুক্ত ৬১৩ জন কর্মকর্তা আট দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. সরদার মো. কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা (নেপ) একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হক।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষামন্ত্রী ‘১০০টি বিদ্যালয়ে খান একাডেমি, বাংলাদেশ’-এর শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বগুড়া, নেত্রকোনা ও কক্সবাজারের নতুন করে ১০০টি বিদ্যালয়ে কার্যক্রমটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত