ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ট্যাক্স বাড়িয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর বার্তা মন্ত্রীর

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:৫৬:০২

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ট্যাক্স বাড়িয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর বার্তা মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান এই তিনটি খাতকে আসন্ন বাজেটের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে হলে করের পরিধি বাড়িয়ে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা অপরিহার্য। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় একটি বড় মাপের সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষে নির্ধারিত ভূমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সরকারের এই উন্নয়ন দর্শনের কথা তুলে ধরেন।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের রোডম্যাপ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ট্যাক্স বাড়াতে হবে, এর মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না, এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে সরকার জোর দিচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাজেটে বড় ধরণের পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাবে।

এদিন মন্ত্রী পতেঙ্গা থানাধীন জেলে পাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের নির্ধারিত স্থানটি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। বিকেল ৩টার দিকে তিনি মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় পৌঁছান, যেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমিতে এই আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী সেখানে নৌবাহিনীর অধীনে থাকা মোট ১৪.২১৯০ একর এবং ২.৭ একরের দুটি পৃথক প্লট পরিদর্শন করেন। এই বিশাল এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

পরিদর্শনকালে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান মন্ত্রীকে জমির ভৌগোলিক অবস্থান, পারিপার্শ্বিক অবকাঠামো এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করেন। তিনি জানান, এই জমিতে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে পতেঙ্গাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও সহজতর হবে। এটি চট্টগ্রাম মহানগরীর চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতেও বড় ভূমিকা রাখবে।

এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বানৌজা উল্কার অধিনায়ক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা এবং সদস্য সরফরাজ কাদের রাসেল উপস্থিত ছিলেন। এই হাসপাতাল প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

খরচ কমাচ্ছে সরকার: কমছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা

খরচ কমাচ্ছে সরকার: কমছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন... বিস্তারিত