ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

মানুষের এমন উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বিরল: সংস্কৃতিমন্ত্রী

২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৭:৩৩:৪১

মানুষের এমন উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বিরল: সংস্কৃতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা নববর্ষকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে মানুষের এমন উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বিরল।

তিনি জানান, অন্যান্য বছরগুলোতে সকাল ১০টা-১১টার আগে রাস্তায় তেমন মানুষের উপস্থিতি দেখা যেত না, তবে এবার সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। তার ভাষায়, মানুষ যেন বন্যার মতো ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিসিক ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে সাত দিনব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখে বৈশাখী মেলার ঐতিহ্য গ্রামীণ জীবন থেকে উৎসারিত হয়ে এখন নগরজীবনেও বিস্তৃত হয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে এই মেলার প্রচলন শুরু হলেও বর্তমানে শহুরে মানুষও তা ধারণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এই মেলা শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ এবং এটি দেশের গ্রাম-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির সংস্কৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। অতীতে এ দিনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের বর্ষবরণে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও শৃঙ্খলা প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে এসেছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় মোট ১৬০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চামড়াজাত পণ্য, জামদানি, নকশিকাঁথা, বস্ত্র, শতরঞ্জি ও মণিপুরি শাড়ির স্টল। এছাড়া কারুশিল্প, শিশুদের বিনোদন, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্যও পৃথক স্টল রাখা হয়েছে।

প্রান্তিক কারুশিল্পী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য বিশেষভাবে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে কৃষিজ পণ্য, কারুশিল্প, পাট ও চামড়াজাত দ্রব্য, জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, কুটির শিল্প ও লোকজ খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭০-এর দশকের শেষার্ধ থেকে বিসিক ও বাংলা একাডেমি যৌথভাবে নববর্ষ উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করে আসছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত