ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ঈদের আগে বড় অংকের প্রণোদনা চায় বিজিএমইএ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতর ঘিরে তৈরি পোশাক খাতে বেতন–বোনাস পরিশোধের চাপ বাড়তে থাকায় জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে উদ্যোক্তারা। বকেয়া প্রণোদনার প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দ্রুত ছাড় এবং দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক খান বাবলু ও সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর-এর সঙ্গে বৈঠক করে লিখিত প্রস্তাব জমা দেয়।
বৈঠক শেষে শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে খাতে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে যাতে কোনো কারখানা শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দিতে ব্যর্থ না হয়, সে জন্য দ্রুত অর্থ ছাড়ের অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, খাতটিতে এক মাসের মোট বেতন ব্যয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। সে হিসাবে দুই মাসের প্রয়োজন দাঁড়ায় আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা—যা সফট লোন হিসেবে চাওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, সব কারখানা সমানভাবে প্রণোদনা পায় না। বিশেষ করে ওভেন ও সোয়েটার কারখানাগুলো তুলনামূলক কম সুবিধা পায়, ফলে তাদের ওপর বেতন পরিশোধের চাপ বেশি পড়ে। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি ও মার্চে সরকারি ছুটি ও নির্বাচনী কার্যক্রম মিলিয়ে প্রায় ২৫ দিন উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। মাত্র ৩৫ দিন কাজ করে ৬০ দিনের বেতন দেওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।
বৈঠকে গভর্নর প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানায় বিজিএমইএ। স্যালারি সাপোর্টের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমান ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ পদ্ধতিতে প্রণোদনা বিতরণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বঞ্চিত হতে পারে বলেও উদ্বেগ জানিয়েছে বিজিএমইএ। তাদের মতে, এসএমই খাতের জন্য আলাদা তহবিল গঠন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা প্রয়োজন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের কারণ প্রসঙ্গে সংগঠনটি জানায়, তারা ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য, এবারের পরিস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় ভিন্ন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ, নির্বাচনী কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সংকট রপ্তানি খাতে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর শুল্কনীতির প্রভাবেও রপ্তানি চাপে রয়েছে বলে দাবি তাদের।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। এ অবস্থায় শিল্প সচল রাখা এবং শ্রমিকদের সময়মতো পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে দ্রুত আর্থিক সহায়তা জরুরি বলে মনে করছে সংগঠনটি। তারা বলছে, নতুন কোনো সুবিধা নয়—বরং বকেয়া প্রণোদনা দ্রুত ছাড় ও স্বল্পমেয়াদি সহায়তাই তাদের মূল দাবি।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়ার ফুটবল ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: কবে, কখন, কোথায়-জানুন সময়সূচি
- উৎপাদন বন্ধ থাকায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- বাংলাদেশ বনাম চীন ফুটবল ম্যাচ: জেনে নিন ফলাফল
- জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করল সরকার
- ডুসাসের নেতৃত্বে জিসান-সাবরিন
- বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?
- ইরানে স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮
- শিক্ষকরা ফেব্রুয়ারির বেতন বেতন পাবেন কবে, জানাল মাউশি
- মারা যাওয়ার আগে কী বার্তা দিলেন জাহের আলভীর স্ত্রী?
- একই কক্ষপথে যাত্রা, এক বছর পর তিন মেরুতে তিন কোম্পানি
- আতঙ্ক কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই, সূচকের বড় লাফ
- দুবাই বিমানবন্দরে আটকা অভিনেত্রী, মোদির কাছে বাঁচার আকুতি
- ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বিধ্বংসী হামলা