ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক বসালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১২:৫৮:৫২

১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক বসালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আদালতের রায়ে পুরোনো শুল্কনীতি বাতিল হলেও থেমে থাকেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আগের শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করার পরই নতুন আইনি ধারায় বিশ্বের সব দেশের ওপর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি।

এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার আওতায়। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫০ দিন সব দেশের ওপর এ ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।

এর পাশাপাশি, পূর্বের শুল্ক কাঠামো অন্য কোনো আইনের মাধ্যমে পুনর্বহাল করা যায় কি না, সে বিষয়েও খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের বিকল্প আছে, চমৎকার সব বিকল্প আছে। এসব বিকল্প ব্যবহার করা হলে আরও বেশি অর্থ আসবে। আমরা আরও বেশি অর্থ আদায় করতে পারব এবং আরও শক্তিশালী হবো।”

প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট (আইইপিএ) আইনের আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। ওই নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে এমন সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সময় এ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়।

এই শুল্কনীতির ফলে গত প্রায় এক বছরে অতিরিক্ত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলার রাজস্ব আদায় করেছে যুক্তরাষ্ট্র এমন দাবি করা হয়েছে।

তবে শুক্রবার Supreme Court of the United States রায়ে বলেন, আইইপিএ আইনটি বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে ওই আইনের অধীনে আরোপিত শুল্ক অবৈধ।

আদালত অবৈধ ঘোষিত শুল্ক থেকে আদায় করা অর্থের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে নিম্ন আদালতগুলো পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনকি বিষয়টি United States Court of International Trade-এও গড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থ ফেরত পেতে আগ্রহী সংস্থাগুলোকে মার্কিন আদালতে মামলা করতে হবে। ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, শিগগিরই অন্য কোনো আইনের আওতায় শুল্ক পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আন্তর্জাতিক এর অন্যান্য সংবাদ