ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ভোরের আলো ফুটতেই জনসমুদ্রে পরিণত হলো কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১০:৪৪:১৪

ভোরের আলো ফুটতেই জনসমুদ্রে পরিণত হলো কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফাল্গুনের মিঠে রোদে রাঙানো ভোরের আলো ফুটতেই একুশের অবিনাশী চেতনায় জেগে উঠেছে রাজধানী। বায়ান্নর অমর শহিদদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ আর অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়ে আজ শনিবার সাতসকালেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার অভিমুখে নেমেছে মানুষের জনস্রোত। নগ্ন পায়ে, শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে জনতা যখন শহিদ বেদিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করছে, তখন পুরো এলাকা যেন এক বিশাল পুষ্পকাননে পরিণত হয়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে শহিদ মিনারের প্রতিটি ইঞ্চি আজ হয়ে উঠেছে কৃতজ্ঞ বাঙালির মিলনমেলা।

শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আজ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাদা পোশাকে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটসের কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবী। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে ধৈর্যসহকারে অপেক্ষা করছেন নারী, শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও। সবার হাতেই সুশোভিত ফুলের তোড়া এবং অন্তরে সালাম, বরকত, রফিকদের আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। একে একে সারিবদ্ধভাবে সবাই শহিদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন।

পুষ্পস্তবক হাতে শহিদ মিনারে উপস্থিত হতে দেখা যায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিদের। এছাড়াও টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদিচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মতো সামাজিক ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলো তাদের দলীয় ব্যানারে শহিদদের প্রতি পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন।

কেবল প্রাতিষ্ঠানিক নয়, ব্যক্তিগতভাবেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক বাবা-মায়ের দেখা মিলেছে যারা তাঁদের ছোট্ট সন্তানদের হাত ধরে শহিদ মিনারে এসেছেন বীরদের বীরত্বগাথা চেনাতে। শ্রদ্ধা জানাতে আসা শফিকুল ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এদিন আমাদের প্রেরণার। এই প্রেরণা থেকেই আমাদের স্বাধীনতার পথচলা। যখন পশ্চিমারা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তখন ছাত্ররা আত্মত্যাগের মাধ্যমে মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল।’ তিনি গর্বের সাথে আরও যোগ করেন, ‘আমরাই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছি।’

তারুণ্যের এই মিছিলে সামিল হয়ে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, এটা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই ইতিহাসকে নতুন করে অনুভব করি।’

মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত স্কাউট সদস্য মাহদি হাসান একুশের এই সার্বজনীনতাকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা রক্ষা করতে এসে বুঝতে পারছি, মানুষের আবেগ কত গভীর। সবাই খুব সম্মান নিয়ে, নিয়ম মেনে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এটা আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।’ বেলা বাড়ার সাথে সাথে ফুলের স্তূপের উচ্চতা যত বাড়ছে, বাঙালির আত্মমর্যাদার বোধ যেন ততটাই শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত