ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহিদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১০:৩৪:৫০

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহিদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: অমর একুশের প্রথম প্রহরে গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার আবহে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বায়ান্নর শহীদদের স্মরণ করেন।

শুক্রবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক আত্মদানের স্মৃতিকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সূচনা হয়।

রাত ১২টা বাজতেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি। তার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী ও উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা জানান। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতারাও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন শ্রদ্ধা জানান। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররাও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সংগঠন একে একে শ্রদ্ধা জানান।

প্রথম প্রহরের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে অপেক্ষা করেন হাজারো মানুষ। মধ্যরাতের আগেই হাতে ফুল নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকলে একুশ ছিলো অবরুদ্ধ, এবার সেই একুশ মুক্ত’। তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতা করে থেকে একুশে ছিল অবরোধ এবার সেই একুশে মুক্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুভূতি সেই জন্যেই একটু ভিন্ন রকম এবং আজকে একটা নির্বাচনের পরে যে সরকার নির্বাচিত সরকার বিএনপির নতুন সরকার জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে। আমাদের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশাও অসীম হয়ে উঠেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের যে প্রত্যাশা আগামী দিনগুলোর জন্যে গণতান্ত্রিক সরকারের জন্যে একটা বাংলাদেশে একটি সত্যিকার অর্থেই একটা ইনসাফের ওপর ভিত্তি করে একটা গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা।’

তিনি আরও বলেন, ‘একুশের যেটা মূল চেতনা ছিল যে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন একটা সমাজ একটা রাষ্ট্র গঠন করা সেই চেতনার ভিত্তিতে আমরা আগামী দিনে এগিয়ে যাবো। আমরা বিশ্বাস করি যে নতুন একুশের যে অনুপ্রেরণা সে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা সামনের দিকে নিঃসন্দেহে জনগণের কল্যাণের জন্য আমরা কাজ করতে সক্ষম হব। আমাদের মাতৃভাষাকে আমরা আরো সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবো, আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবো, আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সমর্থ হবো।’

রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুল ফোটার এই দিনে বাঙালি জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে ভাষা আন্দোলনের বীর সন্তানদের। চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে সেই অমর গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’

বায়ান্নর উত্তাল আন্দোলনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে নামা ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছিল ইতিহাস। সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা শহীদদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয় বাংলা ভাষার মর্যাদা। তাদের এই আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

অমর একুশে উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

আজ (শনিবার) সরকারি ছুটি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত