ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

চট্টগ্রামের বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগ

২০২৬ জুলাই ১০ ১৬:৩৬:৪৬

চট্টগ্রামের বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ১০টি উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে চলা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় এ অঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংকট মোকাবিলা ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মানবিক ও কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।

মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি ও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের সহায়তায় দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি জানান, জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার জন্য দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান এবং তিন হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, টানা বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি- সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন। জনগণের সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।’

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও নিম্নমুখী সমন্বয় এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২... বিস্তারিত