ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বাংলাদেশকে বিশ্বমানের বিনিয়োগবান্ধব করতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে

২০২৬ জুলাই ০৯ ২১:৩৪:১৩

বাংলাদেশকে বিশ্বমানের বিনিয়োগবান্ধব করতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ব্যবসার ব্যয় কমানো, নিয়ন্ত্রণমুক্ত নীতিকাঠামো গড়ে তোলা এবং বেসরকারি খাতের বিকাশের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশকে একটি বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করবে। তিনি জানান, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের একটি উন্নত নীতিকাঠামোর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস করা। এতে দেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস তথা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্ধারিত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে। তবে এসব পরিকল্পনা ও লক্ষ্য দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি খাতের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার চায় বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বেসরকারি খাতনির্ভর দেশে পরিণত হোক। তবে কোনো সরকার এককভাবে এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ধারা আরও বিস্তৃত হোক সরকার সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে।

বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতিমালার প্রসঙ্গ তুলে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বাজেটেই সরকারের ভবিষ্যৎ রূপকল্প স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের মূল নীতি হলো বাংলাদেশকে যতটা সম্ভব আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। যেসব খাতে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে কাঁচামালের ব্যয় কমাতে বন্ডেড সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ইনপুট ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎপাদনে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের লক্ষ্যে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী দিনে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব উদ্যোগের আরও বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত