ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১০:২৪:০৪

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

ডুয়া ডেস্ক: বাঙালির শোক ও সাহসের অবিনাশী প্রতীক অমর একুশের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৫২ সালের সেই রক্তঝরা দিনটির স্মৃতি হৃদয়ে নিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরের আলো ফোটার আগেই বাঙালির হৃদয়ে বেজে উঠেছে সেই চিরচেনা সুর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। এদিন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

একুশের প্রথম প্রহর অর্থাৎ রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাবীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪০ মিনিটে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর হাজারো মানুষ নগ্ন পায়ে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে শহিদ মিনারে সমবেত হন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধার ফুলে ভরে ওঠে শহিদ মিনারের বেদি।

শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভোরে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহিদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। সেখানে শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়। এছাড়া দেশের সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার শান্তি ও দেশের কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মহান দিবসটি নির্বিঘ্ন করতে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই ডিএমপির প্রায় ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত রূপ নেয়। সেদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নামলে তৎকালীন পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারের মতো বীর সন্তানেরা। শহিদদের স্মরণে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম শহিদ মিনার তৈরি হলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি তা গুঁড়িয়ে দেয় তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। তবে সেই রক্ত বিফলে যায়নি; ১৯৫৬ সালে বাংলা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়।

বাঙালির এই অনন্য সংগ্রামের স্বীকৃতি মেলে বিশ্বমঞ্চেও। ২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজ ৭৪ বছর পেরিয়েও একুশের সেই চেতনা বাঙালির মনে সমভাবে প্রোজ্জ্বল, যা আমাদের অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে অবিরাম শক্তি জুগিয়ে যাচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

খরচ কমাচ্ছে সরকার: কমছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা

খরচ কমাচ্ছে সরকার: কমছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন... বিস্তারিত