ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
রমজানের প্রথম শুক্রবারেই মাছ ও মাংসের বাজারে চরম অস্থিরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম শুক্রবার ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে মাছ ও মাংসের দামে আগুনের আঁচ লেগেছে। ইফতার ও ছুটির দিনের বিশেষ আয়োজনের জন্য ক্রেতাদের ভিড় বাড়তেই সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রোটিনের জোগান। বিশেষ করে সোনালি মুরগি ও গরুর মাংসের দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে মুরগির বাজারে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৫০-৬০ টাকা বেড়ে ৩৪০ টাকায় ঠেকেছে। গত সপ্তাহের ১৮০ টাকার ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। এ ছাড়া লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুরে বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শীতের শেষ সময়, সামনে রোজা-বিয়ে, দাওয়াত, ইফতার মাহফিল সব মিলিয়ে সোনালি মুরগির চাহিদা বেশি। খামার থেকেও দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংসের দাম অবশ্য আগের মতোই চড়া প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা। বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাসান ফারাবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রোজা শুরু হতেই বাজার যেন আরেক ধাপ ওপরে উঠে গেছে। গত সপ্তাহেও যে রুই মাছ ৩৬০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৪০০ টাকার ওপরে। মুরগির দামও বেড়েছে। সংসারের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
মাছের বাজারে মাঝারি আকারের রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা এবং কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খিলক্ষেতের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, ‘নদীর দেশি মাছ এখন কম। বেশির ভাগই চাষের মাছ। পরিবহণ খরচ, বরফের দাম, সব মিলিয়ে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আমরা খুব বেশি লাভ রাখছি না, কিন্তু পাইকারি দামের কারণে খুচরায় একটু বাড়তি পড়ছে।’ আজিমপুর এলাকার খায়রুল মিয়া বলেন, ‘রোজার মুরগির মাংসটা একটু বেশি লাগে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি সবকিছুর দাম বাড়তি। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে। ডিম কিছুটা স্বস্তি দিলেও অন্য জিনিসে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আয় তো বাড়ছে না, কিন্তু খরচ প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে।’
যদিও আমিষের দাম আকাশছোঁয়া, তবে সবজির বাজারে কিছুটা মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কুমড়া প্রতি কেজি ১৬-২০ টাকা এবং মুলা ১২-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান বেগুন, শশা ও লেবুর দাম যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতি হালি লেবু এখন ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। স্বস্তির খবর কেবল ডিমের বাজারে; এক ডজন ডিম আগের মতোই ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের সরবরাহ ঠিক থাকায় আপাতত দাম বাড়েনি।
রমজানের শুরুতেই বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার যথাযথ মনিটরিং না হলে রোজার বাকি দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের খেলা চলছে: ব্যাটিংয়ে টাইগাররা-দেখুন সরাসরি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সম্ভাব্য সময় জানাল মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
- ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে প্রবাসীদের উৎসাহের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
- বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটি
- সময় কমিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সিদ্ধান্ত
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর
- শীর্ষ ১০ ইহুদিবিদ্বেষী প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশ করল ইসরাইল
- রেকর্ড মুনাফা করে ডিভিডেন্ডে চমক দেখাল ইস্টার্ন ব্যাংক
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের নববর্ষের শুভেচ্ছা
- কপার টি: নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
- আগের মালিকদের হাতে ফিরছে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক
- ঢাবির ক্ষণিকা বাস দু/র্ঘটনায় আ/হত ৮ শিক্ষার্থী