ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ: গঠন ও পরিচালনা হয় কিভাবে?

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৯:০৩:৪২

সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ: গঠন ও পরিচালনা হয় কিভাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সরকার ও সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া। এবারের সংসদীয় কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এনেছে ‘জুলাই সনদ’। প্রচলিত এককক্ষবিশিষ্ট সংসদের বদলে এখন থেকে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—এই দুই স্তরে বিভক্ত থাকবে বাংলাদেশের আইনসভা।

নিম্নকক্ষ: প্রত্যক্ষ ভোটের জনপ্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী যারা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের নিয়ে গঠিত হবে নিম্নকক্ষ। এর সদস্য সংখ্যা হবে ৩৫০ জন (৩০০ জন সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য)। নির্বাচনের পর আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই কক্ষের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা।

উচ্চকক্ষ: প্রজ্ঞা ও বিশেষজ্ঞের মিলনমেলা

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘উচ্চকক্ষ’ গঠিত হবে। প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ২১০ দিনের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। প্রক্রিয়াটি হবে নিম্নরূপ:

প্রথম ১৮০ দিন: নিম্নকক্ষের সদস্যরা সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করবেন।

পরবর্তী ৩০ দিন: জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের আনুপাতিক হারে (Proportional Representation) ১০০ জন প্রতিনিধি নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।

আসন বণ্টন: কোনো দল যদি নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পায়, তবে উচ্চকক্ষ বা উচ্চকক্ষে তারা ৪০টি আসন পাবে। এমনকি ১ শতাংশ ভোট পাওয়া দলও উচ্চকক্ষে ১ জন প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংসদ যেভাবে পরিচালিত হবে

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সাধারণ মেয়াদ ৫ বছর। সংসদের মূল কাজ হলো আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

১. আইন প্রণয়ন: যেকোনো নতুন আইনের প্রস্তাব ‘বিল’ আকারে উত্থাপিত হবে। তিনটি রিডিং বা ধাপ পার হওয়ার পর এটি উভয় কক্ষের ভোটে পাস হতে হবে।

২. রাষ্ট্রপতির ভূমিকা: সংসদ কর্তৃক পাস হওয়া সকল আইনের ওপর রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সম্মতি বা স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।

৩. সংবিধান সংশোধন: সংবিধানের যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ (মেজরিটি) ভোটের প্রয়োজন হবে।

৪. অধিবেশন: স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সংসদ পরিচালনা করবেন। এক অধিবেশন শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন ডাকা বাধ্যতামূলক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর ফলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আসবে এবং ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্য রোধ করা সম্ভব হবে। এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত