ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

কিভাবে পরিচালিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ?

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৭:১১:৪৬

কিভাবে পরিচালিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয় সংসদকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ৩০০ জন সরাসরি নির্বাচিত সদস্য এবং ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ৩৫০ জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে এই সংসদ গঠিত হয়। সাধারণত ৫ বছরের মেয়াদে গঠিত এই সংসদই নির্ধারণ করে দেশের আইনের গতিপ্রকৃতি এবং সরকারের জবাবদিহিতা।

অধিবেশন ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন। সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে বিরতি কোনোভাবেই ৬০ দিনের বেশি হতে পারবে না। এই বাধ্যবাধকতার কারণে বছরে সাধারণত তিনটি প্রধান অধিবেশন বসে—শীতকালীন অধিবেশন, বাজেট কেন্দ্রিক বর্ষাকালীন অধিবেশন এবং বছরের শেষভাগে শরৎকালীন অধিবেশন।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া

সংসদের প্রধানতম কাজ হলো নতুন আইন তৈরি বা পুরানো আইন সংশোধন। যে কোনো আইনের খসড়া বা প্রস্তাবকে ‘বিল’ বলা হয়। বিলটি উত্থাপনের পর তিনটি ধাপে (রিডিং) আলোচনার পর ভোটে পাস হলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয়।

সরকারের জবাবদিহিতা ও সংসদীয় কমিটি

সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার প্রতিটি কাজের জন্য সংসদের কাছে দায়ী থাকে। অধিবেশনের শুরুতে ‘প্রশ্নোত্তর পর্বে’ সংসদ সদস্যরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের প্রশ্ন করার সুযোগ পান। এছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি করে ‘সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’ থাকে, যারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও অনিয়ম তদন্তের ক্ষমতা রাখে। এই কমিটিগুলোকে সংসদের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অর্থের নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদের অনুমোদন ছাড়া সরকার এক পয়সাও খরচ করতে পারে না। প্রতি বছর অর্থমন্ত্রী যে বাজেট পেশ করেন, তা সংসদে দীর্ঘ আলোচনার পর পাস হয়। কর আরোপ ও ঋণের অনুমোদনের একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ হলো এই সংসদ।

সংবিধান সংশোধন ও অভিশংসন

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দলিল সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপতি যদি কোনো গুরুতর অপরাধ বা সংবিধান লঙ্ঘন করেন, তবে সংসদ তাকে ‘অভিশংসন’ বা পদচ্যুত করার সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখে।

পরিশেষে, স্পিকারের দক্ষ পরিচালনায় জাতীয় সংসদ কেবল আইন তৈরির কারখানা নয়, বরং এটি জনস্বার্থ রক্ষা এবং একটি জীবন্ত গণতন্ত্র চর্চার সর্বোচ্চ মঞ্চ।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত