ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

নির্বাচনে কোনো প্রকার অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়নি: ইওএস

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৪:৫১:১৯

নির্বাচনে কোনো প্রকার অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়নি: ইওএস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রভাব বা বড় ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়নি। ভোটের আগে জনমনে কিছুটা ভয় ও অনিশ্চয়তা থাকলেও ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল সন্তোষজনক, এবং সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসনীয় ছিল। যদিও কিছু কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারদের সীমাবদ্ধতা ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেখা গেছে, তবুও নির্বাচনের সার্বিক প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ছিল।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: পর্যবেক্ষকদের তাৎক্ষণিক রিপোর্ট ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ’ অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন নির্বাচনের পর্যবেক্ষক সংস্থা ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি (ইওএস)।

ইওএস-এর সভাপতি ইকবাল হোসেন হীরা, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ, প্রধান সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম আপ্পি, সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ ও নির্বাহী মাহমুদা পারভীন উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাটি জানায়, সারাদেশে ২৯৯টি আসনের ৩৮,২৯৯টি ভোটকেন্দ্রে ৩৬ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। পর্যবেক্ষকদলে ছিলেন মসজিদের ইমাম, নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ইওএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য যথেষ্ট সময় থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছু অনিশ্চয়তা বিরাজ করলেও নির্বাচন কমিশন একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যদিও কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে পর্যবেক্ষক, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনার অভাব বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পরে প্রতীকের অবস্থান, শাপলা প্রতীকের সময়কাল, পরিচয়পত্র সংগ্রহ এবং মোবাইল ব্যবহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো সংশোধন বা প্রত্যাহার করা হয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, ঋণখেলাপি ইস্যুসহ কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলের মতামত বিবেচনায় কমিশন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে, যা ইসির ভাবমূর্তি প্রভাবিত করেছে। কিছু কেন্দ্রে বুথ স্থাপনের অসামঞ্জস্য এবং ভোটারের অনিয়মিত বণ্টন দেখা গেছে। রাজধানীতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল, যা ভবিষ্যতের জন্য নজরদারি দাবি করে। সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারণা এবং কমিশনের শেষ মুহূর্তের নিষেধাজ্ঞার কারণে জনমনে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

ইকবাল হোসেন হীরা বলেন, নির্বাচনের আগে শক্তিশালী প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও পারস্পরিক ব্যক্তিগত আক্রমণ নজরে এসেছে। তবে সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পেশাদারিত্ব, সক্রিয়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী নিরপেক্ষভাবে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিরাপদ ছিল, এবং টানটান উত্তেজনার মধ্যেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

পর্যবেক্ষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কোনো আসনে ফলাফল প্রভাবিত করতে পারে এমন গুরুতর অনিয়ম বা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়নি। নারী ও তরুণ ভোটারের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনে জনগণের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সার্বিকভাবে, নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপায়ণ হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত