ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করল বাংলাদেশ

২০২৬ মে ১৫ ১৯:১৫:৩৬

কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাশ্রয়ী মূল্য, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং টেকসই সাপ্লাই চেইনের ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে এই উদ্যোগ।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তেল, গ্যাস, ভূতাপীয় শক্তি এবং জৈবশক্তি খাতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম সহজ হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই সমঝোতা স্মারককে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এই সমঝোতা স্মারককে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সহযোগিতা দুই দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত