ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

জেফ্রি এপস্টেইনের মৃত্যুর রহস্যে নতুন প্রশ্ন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৭:৪৪:২২

জেফ্রি এপস্টেইনের মৃত্যুর রহস্যে নতুন প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কুখ্যাত যৌন অপরাধী ও ধনকুবের মার্কিন নাগরিক জেফ্রি এপস্টেইনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নতুন করে তদন্ত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তার ময়নাতদন্ত পর্যবেক্ষক, চিকিৎসক ডা. মাইকেল ব্যাডেন। তিনি দাবি করেছেন, এপস্টেইনের মৃত্যু ফাঁস দিয়ে নয়, বরং শ্বাসরোধের ফলে ঘটে থাকতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে যৌন পাচারের মামলার বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনায় নিউইয়র্ক মেডিক্যাল এক্সামিনার দপ্তরের সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট নন। ডা. ব্যাডেন পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, মৃত্যুর ধরন ফাঁসির চেয়ে শ্বাসরোধের চাপের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আরও তদন্ত জরুরি।’

এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশিত সরকারি নথিপত্র ও সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যজনক ‘নিখোঁজ’ এক মিনিট দেখা যায়, যা জল্পনা বাড়িয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ ময়নাতদন্তের আংশিক সম্পাদিত সংস্করণে ‘মৃত্যুর ধরন’ অংশে ‘পেন্ডিং’ লেখা হয়েছে, আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড—উভয় ক্ষেত্রের ঘর খালি রাখা হয়েছে।

ডা. ব্যাডেন জানান, ময়নাতদন্তের সময় মেডিকেল এক্সামিনারের সঙ্গে তার মতানৈক্য ছিল। তবে পাঁচ দিন পর ড. বারবারা স্যাম্পসন ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। ডা. ব্যাডেন দাবি করেন, স্যাম্পসন ময়নাতদন্তে উপস্থিত ছিলেন না এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আরও তথ্য প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘প্রথম যে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল, তার কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি অস্বাভাবিক বা অত্যন্ত সন্দেহজনক ক্ষেত্রে কখনও সপ্তাহ বা মাসও লাগতে পারে।’ ২০১৯ সালের আগস্টে ফক্স নিউজকে ডা. ব্যাডেন বলেছিলেন, প্রমাণগুলো আত্মহত্যার চেয়ে হত্যাকাণ্ডের দিকে বেশি ইঙ্গিত করছে।

সরকারি প্রতিবেদনে এপস্টেইনের গলায় তিনটি ভাঙন ধরা পড়েছে—বাম পাশের হাইয়য়েড হাড়, ডান পাশের থাইরয়েড কার্টিলেজ এবং বাম পাশে। ডা. ব্যাডেন বলেন, তিনি ৫০ বছরের অভিজ্ঞতায় এমন ফাঁসির ঘটনায় তিনটি ভাঙন কখনও দেখেননি।

তিনি অভিযোগ করেছেন, ঘটনাস্থল ও মরদেহ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়েছে। সেলের বাইরের ক্যামেরা অকেজো ছিল এবং কারারক্ষীরা নিয়মিত নজরদারি করেননি। তাঁর মতে, এসব প্রমাণ থাকলে মৃত্যুর প্রকৃতি—আত্মহত্যা নাকি হত্যা—নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যেত।

এদিকে, এফবিআই ও মার্কিন বিচার বিভাগ জানাচ্ছে, এপস্টেইন আত্মহত্যা করেছেন এবং হত্যার প্রমাণ নেই। তবে ডা. ব্যাডেনের পর্যবেক্ষণ নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পুনঃতদন্তের দাবি উত্থাপন করেছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত