ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২
বিএনপির জয়ের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রতিবেশী দেশ ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় এবং একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসায় ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ দেখছে ভারত।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এনডিটিভি ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন থেকেই বিশ্বাস করে আসছিল যে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও নির্বাচিত সরকার থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্থিতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা ফিরে আসে। বিএনপির এই বিশাল বিজয় সেই বিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে। ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে, এই ফলাফলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের জটিল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বেশ অবনতি হয়েছিল। ভারতের মতে, ওই সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া এবং সম্পর্কের তিক্ততার জন্য ভারতীয় মিডিয়া ও জনগণকে দায়ী করার প্রবণতা ছিল দৃশ্যমান। এছাড়া সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপের অভাব এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর আধিপত্য ভারতকে উদ্বিগ্ন করেছিল।
ভারতের নীতিনির্ধারকরা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামীর পদক্ষেপ নিয়ে ‘সতর্ক আশাবাদী’। নয়াদিল্লি মনে করছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারেক রহমান আরও বাস্তবসম্মত ও বিচক্ষণ কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বন করবেন। এই আশাবাদের প্রাথমিক বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তায়। মোদি তাঁর বার্তায় তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে ‘আনন্দিত’ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, যা ইতিবাচক কূটনীতির ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের অভিষেক অনুষ্ঠানে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল পাঠানো হতে পারে। এর মাধ্যমে মূলত বার্তা দেওয়া হবে যে, ভারত অতীতের তিক্ততা ভুলে একটি নতুন এবং আস্থাশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। উল্লেখ্য, এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরও ছিল এই সুসম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টার একটি অংশ।
এনডিটিভি আরও জানায়, ভারতের বর্তমান কৌশল স্পষ্ট—তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সমর্থন করবে এবং নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সজাগ থেকে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাবে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পাকিস্তান বনাম যুক্তরাষ্ট্র: কখন, কোথায় সরাসরি Live দেখবেন জানুন
- ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ১২ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে কে?
- ঢাকা-১৭ আসনে ১৮ কেন্দ্রের ফল: এগিয়ে তারেক রহমান
- ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ৩ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে কে?
- বিশ্বরেকর্ড জুটিতে আমিরাতকে ১০ উইকেটে উড়াল নিউজিল্যান্ড
- কুমিল্লা-৪ আসনে ৪৬ কেন্দ্রের ফল: তিনগুণেরও বেশি ভোটে এগিয়ে হাসনাত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
- ভোটের ফল পাওয়া যাবে কখন থেকে?
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ৩৩ কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে রুমিন ফারহানা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বে লিজিং
- পঞ্চগড়-১ আসনে ৮ কেন্দ্রের ফল: সারজিস আলম এগিয়ে
- ঢাকা-৯ আসনে দুই কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে কে?
- ঢাকা-১৫ আসনে জয়ী জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
- ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৮ কেন্দ্রের ফল: এগিয়ে মির্জা ফখরুল
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান