ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পুনেতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব ঘিরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং তাদের খাবারের স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির যুব সংগঠন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (বিজেওয়াইএম)-এর কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুনের মহারাষ্ট্র ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’-এ এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের খাবারের স্টল, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রদর্শনী ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি কোনো বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টলে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। উপস্থিত এক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-কে জানান, হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না এবং নিরাপত্তারক্ষীরাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বাংলাদেশি পতাকার ছবি এঁকে তার ওপর পা দিয়ে অবমাননাকর আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার গণেশ পোকলে এক বিবৃতিতে বলেন, উৎসব চলাকালে অননুমোদিত কিছু ব্যক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে বিজেওয়াইএমের পুনে শহর সভাপতি দুষ্যন্ত মোহল দাবি করেন, বাংলাদেশি পতাকা ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তারা পদক্ষেপ নেন। তার ভাষ্য, স্টল নিয়ে আপত্তি ছিল না; কেবল পতাকা টানানোকে কেন্দ্র করেই বিরোধ তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি হলে তারা আবারও ব্যবস্থা নেবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইনি পদক্ষেপ নিলে তারাও আইনি জবাব দেবেন।
এদিকে ঘটনার তিনদিন পরও মামলা না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১১ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো এফআইআর দায়ের হয়নি।
পুনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সাম্ভাজি কদম বলেন, অভিযোগ জমা দেওয়া আর এফআইআর নথিভুক্ত করা এক বিষয় নয়; বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। তবে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আইনজীবী ও অধিকারকর্মী আসিম সরোদে বলেন, ভিডিও ফুটেজে ঘটনা স্পষ্ট থাকলে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা নেওয়া উচিত ছিল।
মহারাষ্ট্র যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অক্ষয় জৈন অভিযোগ করেন, ছোটখাটো প্রতিবাদেও দ্রুত মামলা হয়, কিন্তু এখানে অনধিকার প্রবেশ ও ভাঙচুরের ভিডিও থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এনসিপি (এসপি)-এর জাতীয় মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডে বলেন, বহু বছর ধরে পুনেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে এবং এই ঘটনায় দ্রুত এফআইআর করা পুলিশের দায়িত্ব। তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
এনএসইউআইয়ের পুনে সহ-সভাপতি সিদ্ধার্থ জাম্ভুলকর মন্তব্য করেন, এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ২য় ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
- ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- ৪৭তম বিসিএস ভাইভার সময়সূচি প্রকাশ
- বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় কড়াকড়ি, সিএমএসএফে নতুন সিদ্ধান্ত
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- শিরীন সুলতানা ও নিলোফার মনিকে ঢাবি অ্যালামনাই’র অভিনন্দন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- লন্ডনে বৈশাখী উৎসব ঘিরে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে’র নতুন যাত্রা