ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২
৫০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বাণিজ্যিক সমঝোতায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছাল ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি বহুদিন ধরে সুরক্ষিত রাখা ভারতের কৃষিখাত সীমিত পরিসরে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তও এসেছে—জানিয়েছেন ভারত সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে আসবে। এর বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করবে এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক বাধা শিথিল করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই সমঝোতার ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের পণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তি ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে ভারতের মোট কেনাকাটা আগামী কয়েক বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত টেলিযোগাযোগ ও ওষুধসহ একাধিক মার্কিন পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে বাজার খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার সময়ও ভারত সীমিত পরিসরে কৃষিপণ্য আমদানির প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তির প্রথম ধাপ দ্রুত শেষ করতে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক কমিয়েছে ভারত। এটি ভবিষ্যতের বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রয়টার্স এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ই-মেইল পাঠালেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার।
রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির আওতায় রয়েছে ওষুধ, টেলিযোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও উড়োজাহাজ খাত। এসব প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে কয়েক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে আরও বিস্তৃত একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণায় বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমেছে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভারতের অর্থনৈতিকবিষয়ক সচিব অনুরাধা ঠাকুর জানান, এই চুক্তি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও জোরদার করেছে।
এর প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারে। ভারতের প্রধান সূচক নিফটি ৫০ প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে এবং রুপি ডলারের বিপরীতে ১ শতাংশের বেশি শক্তিশালী হয়ে ৯০ দশমিক ৪০-এ লেনদেন হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ভারতের জন্য নির্ধারিত ১৮ শতাংশ শুল্কহার এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। এমন সময় এই চুক্তি এলো, যখন ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে বার্ষিক সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিতে ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে হার ১৯ শতাংশ, আর ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের জন্য তা ২০ শতাংশ।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি এস সি রালহান বলেন, কম শুল্কহার শুধু দামের প্রতিযোগিতাই বাড়াবে না, বরং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
এদিকে মুডিস রেটিংস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক কমানো হলে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি নতুন গতি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বার্জার পেইন্টস