ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

ভেনেজুয়েলার পর কিউবার দিকে নজর ট্রাম্পের

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৫:২৯:৩৬

ভেনেজুয়েলার পর কিউবার দিকে নজর ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান পরিচালনার পর এবার মধ্য আমেরিকার ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ কিউবার প্রতি কড়া বার্তা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতায় না এলে নিকট ভবিষ্যতে কিউবাকে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিউবা-সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল রপ্তানি করে, তবে সেই দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।

এই নির্বাহী আদেশের প্রতিক্রিয়ায় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে কিউবার হাসপাতাল ব্যবস্থা, খাদ্য সরবরাহ এবং জনগণের মৌলিক সেবাগুলোর ওপর। এর ফলে দেশটিতে অচিরেই বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

রোববার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কিউবা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, তাহলে মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা থাকবে না। তার ভাষায়, “সেক্ষেত্রে সব কিছু আবার আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। দেশটির হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই, নেই জ্বালানি তেলও। এতদিন তারা ভেনেজুয়েলার তেল ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা এখন আর পাচ্ছে না।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনারা। বর্তমানে তারা নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।

এরপর ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের উত্তোলন, পরিশোধন ও বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ কর্তৃত্ব আরোপ করেন ট্রাম্প। এই নিয়ন্ত্রণ অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।

কিউবার কাছ থেকে ঠিক কী ধরনের শর্ত পূরণ প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, কিউবা সমঝোতায় না এলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক কিউবান নাগরিক বসবাস করছেন। আশা করা হচ্ছে, কিউবা দ্রুত আলোচনায় আসবে। তা না হলে, এসব নাগরিককে পর্যায়ক্রমে কিউবায় ফেরত পাঠানো শুরু করা হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন