ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় দরপতন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৪:০৫:৫৬

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় দরপতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ইতিবাচক মন্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা দূর হওয়ায় এই দরপতন ঘটে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার বা ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬৭ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ ডলার বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৬৩ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই পক্ষ একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো স্থান থাকবে না। একই সময়ে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার এই ইতিবাচক পরিবেশ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কোনো সামরিক মহড়া চালানোর পরিকল্পনা না থাকার খবরে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, "বাজার এটিকে সংঘাত থেকে সরে আসার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে যে বাড়তি দাম যুক্ত হয়েছিল, বিনিয়োগকারীরা এখন তা থেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন।"

এদিকে, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোট আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত তেল উৎপাদন অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মৌসুমি চাহিদার ঘাটতি থাকায় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমলে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দাম আরও নিম্নমুখী হতে পারে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন