ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

পরমাণু ইস্যুতে ফের আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১০:৫৭:০৮

পরমাণু ইস্যুতে ফের আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি আর সম্ভাব্য যুদ্ধের শঙ্কার মাঝেই আলোচনার পথে হাঁটতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের এক আরব দেশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং মধ্যস্থতার ফলেই এই বৈঠকের আয়োজন সম্ভব হয়েছে।

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সৌদি আরব, মিসর, তুরস্ক এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন। বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি হিসেবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলছে। এই বিরোধ গত বছর জুনে আরও ঘনীভূত হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। টানা ১২ দিন চলা ওই উত্তেজনার পর তিন পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

তবে যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের সম্পর্কে তেমন উন্নতি হয়নি। বরং চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় বড় আকারের মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বহর মোতায়েনের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দেয়।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী।

একই দিনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানান, কয়েকটি মিত্র রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াটি কঠিন হলেও যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ন্যায়সংগত ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব আসে, তাহলে আলোচনার পথ আবারও উন্মুক্ত হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন