ঢাকা, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্সে ৫ দফা দাবি শেখ হাসিনার
নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে অবস্থানকালে এই প্রথমবারের মতো নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শুক্রবার দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সভায় তিনি অডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ভাষণে তিনি নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ, সহিংস এবং পুতুল সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন। শেখ হাসিনার মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে চরম সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কবলে পড়ে গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়েছে।
ভাষণজুড়ে শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে ব্যক্তিগতভাবে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে ‘সুদখোর’, ‘অর্থ পাচারকারী’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, বিদেশি স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানকে ধ্বংস করছেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাবেক বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা সশরীরে উপস্থিত থাকলেও শেখ হাসিনা নিজে মঞ্চে আসেননি; বরং জনাকীর্ণ মিলনায়তনে তাঁর রেকর্ড করা অডিও বার্তাটি শোনানো হয়।
নিজের ক্ষমতাচ্যুতির বিষয়ে শেখ হাসিনা দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ওই দিনটির পর থেকেই দেশে মানবাধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র লুটপাট ও চাঁদাবাজি চলছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবন ও সম্পত্তির কোনো নিরাপত্তা অবশিষ্ট নেই।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘বহুজাতিক সংঘাতের আগুনে’ ঠেলে দিচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগকে দেশের একমাত্র বৈধ ও প্রাচীন গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের সহায়তায় দলটি আবারও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনবে। বক্তব্যের শেষে মিলনায়তনে উপস্থিত সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শেখ হাসিনা পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন। প্রথমত, তিনি ইউনূস সরকারের অপসারণ দাবি করে বলেন, এই প্রশাসনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের স্বার্থে নৈরাজ্য বন্ধের আহ্বান জানান। তৃতীয় দাবিতে তিনি সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান। চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর আইনি হয়রানি বন্ধের দাবি তোলেন এবং পঞ্চম দাবিতে গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিল্লির এই বার্তার মাধ্যমে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি নির্বাসনে থেকেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বনাম চরমপন্থার লড়াই হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন। এই ধরণের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মনে সংশয় তৈরি করে। আগামী অর্থবছরগুলোতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না এলে বাজারে ক্যাশ প্রবাহ ও সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এএসএম/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- অনার্সে পড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার
- ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বসছে চাঁদ দেখা কমিটি
- ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- সমকামিতার অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ শিক্ষার্থীর সিট বাতিল
- নতুন করপোরেট গভর্নেন্স রুলসের খসড়া প্রকাশ, মতামত আহ্বান বিএসইসির
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- না ফেরার দেশে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি আরবে ফুল ফ্রি স্কলারশিপের সুযোগ
- নতুন উপাচার্য পেল দেশের ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
- ৩৬,০০০ টাকা বেতনে চাকরির সুযোগ ইস্টার্ন ব্যাংকে