ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নয়: বিএনপি নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংস্কারের নামে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের সাংবিধানিক সীমার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেও জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কারমূলক পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইকোনমিক গভর্নেন্স অ্যান্ড অ্যান্টি করাপশন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। সংলাপটির আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
ড. রিপন বলেন, দেশের চলমান সংকটের মূল কারণ হলো জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক কোনো নির্বাচিত সরকার না থাকা। এই বাস্তবতায় সংস্কারের অজুহাতে অন্তর্বর্তী সরকার এমন সব নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা তাদের নির্ধারিত ম্যান্ডেটের বাইরে পড়ে। বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধি বা এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার কেবল নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেই সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাকে জবাবদিহির আওতায় রাখার জন্য একটি স্থায়ী ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। তা না হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বৈরাচারী প্রবণতা বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে যাবে।
সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অনেক এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য হোস্টেলকে ব্যক্তিগত আবাসস্থলে রূপান্তর করেন। সেখানে আত্মীয়স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় এবং নানা অনিয়ম ঘটে। এসব বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
ড. রিপন আরও বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ভোট চাইতে জনগণের কাছে গেলেও ভোট শেষ হওয়ার পর অধিকাংশ সংসদ সদস্য এলাকায় আর ফিরে যান না। ফলে নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির মৌলিক পরিবর্তন অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় দুর্নীতি দমন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ছিল প্রধান অগ্রাধিকার। সরকার এ লক্ষ্যগুলো কতটা অর্জন করতে পেরেছে, তার একটি স্পষ্ট ও লিখিত মূল্যায়ন জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি প্রস্তাব করেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় যেন তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়মিত ‘রিপোর্ট কার্ড’ প্রকাশ করে। এসব নথি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আমলাতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রশাসনের ভূমিকা জনবান্ধব হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আমলারা ক্রমেই আরও ক্ষমতাবান হয়ে উঠছেন। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানিই দুর্নীতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।
সবশেষে সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র নতুন কমিটি ঘোষণা
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী
- আজ বিশ্ব মা দিবস
- সাদিক কায়েমের বিয়ে নিয়ে যা জানা গেছে
- মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন যুগের শুরু: গাইডলাইন প্রকাশ করল বিএসইসি
- মৌসুমীর ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে মিশার সহায়তা চাইলেন ওমর সানী
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- ব্যবসায় বড় লাফ ইউসিবি ও লিন্ডে বিডির
- নবম পে স্কেলে বেতন কাঠামো কত নির্ধারণ করা হয়েছে?
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ মে)
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এমজেএফের
- দেশে বাড়লো সোনার দাম
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল