ঢাকা, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

শ্রমিকের ঘাম ও ন্যায্য মজুরিই হবে আগামীর রাজনীতির ভিত্তি: আখতার

২০২৬ মার্চ ০৯ ২২:০৯:৫৬

শ্রমিকের ঘাম ও ন্যায্য মজুরিই হবে আগামীর রাজনীতির ভিত্তি: আখতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ছিল সব ধরনের বৈষম্যের অবসান, যার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন মনে করেন, একজন শ্রমিক কেবল উৎপাদনের যন্ত্র নন, বরং তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক ও মানুষ। সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রমিকদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘একজন শ্রমিকও একজন পূর্ণ মানুষ, একজন নাগরিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো অনেক জায়গায় শ্রমিকদেরকে সেই মর্যাদা দেওয়া হয় না।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সমাজের উচ্চবিত্ত বা শিক্ষিত কেউ বিপদে পড়লে রাষ্ট্র ও সমাজ যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, একজন শ্রমিকের ক্ষেত্রে সেই সংবেদনশীলতা দেখা যায় না। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর জন্য যে ধরনের প্রতিক্রিয়া ও আইনি তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়, সাধারণ শ্রমিকের ক্ষেত্রে সেই সহমর্মিতা বা ব্যবস্থা অনেক সময় দেখা যায় না যা একটি চরম সামাজিক বৈষম্য।

দেশের উন্নয়নে শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা স্মরণ করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি হচ্ছে আমাদের শ্রমিক ভাই ও বোনেরা।’ তিনি উল্লেখ করেন, কারখানার শ্রমিক থেকে শুরু করে নির্মাণ শ্রমিক এবং প্রবাসে ঘাম ঝরানো রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত রাখছেন। কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তারা ফসল ফলালেও পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে তারা সব সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। আখতার হোসেন স্বীকার করেন যে, ‘সেই সমস্যাগুলো আমরা এখনো পুরোপুরি সমাধান করতে পারিনি।’

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে শ্রমিকদের বঞ্চনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কলকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকরা এখনো মজুরি বৈষম্যের শিকার। দিনরাত পরিশ্রম করার পরও তারা অনেক সময় সঠিক বেতন বা ওভারটাইমের পারিশ্রমিক পান না। এই বঞ্চনা ও অধিকারহীনতা দূর করাই ছিল চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, এই প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি মানসিকতা থেকেই ২৪-এর আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছিল। তাই নতুন বাংলাদেশে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে আসল বিজয়। ইফতার মাহফিলে জাতীয় শ্রমিক শক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত