ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত: নাহিদ 

২০২৬ জুন ১২ ১৬:১৭:৩৯

এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত: নাহিদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম। তার মতে, বাজেটটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি কার্যত একটি উচ্চাভিলাষী ও ঋণনির্ভর বাজেট। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এবারের বাজেট অনেকটা চানাচুরের মতো খেতে ভালো, কিন্তু পুষ্টিগুণ নেই।’

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংসদ ভবনে বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতাবিবর্জিত। বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে, আর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তার দাবি, বর্তমান প্রশাসনিক ও কর কাঠামোর আওতায় এত বড় রাজস্ব আদায় করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। নির্ধারিত রাজস্ব আদায় না হলে এই ঘাটতি আরও বাড়বে। তখন সরকারকে দেশীয় ব্যাংক এবং বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হবে। তার মতে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অন্তত ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। অথচ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সেই রেকর্ড অর্জন করলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যাবে। প্রশ্ন হলো, সেই ঘাটতি সরকার কীভাবে পূরণ করবে?

তিনি আরও বলেন, বাজেটে নানা আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট হিসেবে পরিণত হতে পারে। তার ভাষায়, এটিকে একটি ‘ঋণগ্রস্ত বাজেট’ বলা যেতে পারে। ফলে সরকারকে আরও বেশি ঋণনির্ভর হতে হবে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তার আশঙ্কা, সরকার যদি ব্যাংক থেকে আরও বেশি ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সংকুচিত হবে। উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে সমস্যায় পড়বেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যাবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের কথা বললেও ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত সংস্কারের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অর্থ পাচার রোধ কিংবা পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো কার্যকর পরিকল্পনাও বাজেটে তুলে ধরা হয়নি।

তিনি দাবি করেন, ব্যাংকিং খাতের দলীয়করণ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের যে অভিযোগ রয়েছে, তা এখনো কাটেনি। ইসলামী ব্যাংকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আবারও এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্য এবং আমানতকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনাস্থা নতুন করে ফিরে আসছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাজেটে বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। তার মতে, বাজেট বক্তব্য শুনতে আকর্ষণীয় হলেও দেশের অর্থনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার মতো কোনো কার্যকর রূপরেখা এতে নেই। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক সংস্কারকে রাজনৈতিক সংস্কার থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমেও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত