ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

মেধা বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়: শিক্ষা উপদেষ্টা

২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৭:০০:২০

মেধা বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়: শিক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষাকে কেবল পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মানবিক ও সৃজনশীল বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, প্রকৃত মেধা বিকশিত হয় খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিতর্ক, সমাজসেবা ও নেতৃত্বচর্চার মাধ্যমে শুধু পরীক্ষার নম্বর দিয়ে মেধার পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রচলিত ধারণায় শিক্ষা বলতে আমরা বই, স্কুল ও কলেজকেই বুঝে থাকি। অথচ শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য হলো মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা, সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে উন্মোচন করা। শিক্ষাজীবন যেন বাস্তবমুখী, জীবনঘনিষ্ঠ ও আনন্দদায়ক হয় সে পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় অতিমাত্রায় বই ও পরীক্ষানির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিশু ও তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি একাডেমিক চাপ তাদের সৃজনশীলতা ও অন্যান্য প্রতিভা বিকাশের পথ সংকুচিত করছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষার দর্শন ও কাঠামো নতুনভাবে পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।

গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা উঠে আসছে উল্লেখ করে অধ্যাপক আবরার বলেন, মেধা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়। চ্যালেঞ্জ হলো জাতি হিসেবে আমরা সেই মেধাকে কতটা সঠিকভাবে লালন করছি এবং বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারছি।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ নারী এবং ৪৩ শতাংশ পুরুষ। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজি রচনা এবং ইংরেজি বক্তৃতা বিভাগে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। এই অগ্রগতি ধরে রেখে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীদের সব স্তরে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে স্কুল বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা কষ্ট অনুভব করবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে। শুধু কিছু নয়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই মানসম্মত স্কুলে রূপান্তর করতে হবে, যাতে সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত